ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেরজের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পেনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালো আচরণ করেনি।
ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। স্পেনের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”
ঘটনার সূত্রপাত ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল স্পেনের সামরিক ঘাঁটিগুলো এই অভিযানে ব্যবহার করতে। তবে স্পেন সরকার সেই অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর ফলে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান অন্যত্র সরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী এই বিমানগুলো ওই ঘাঁটি থেকে উড়ে যায়।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলার মতো অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়,
স্পেনের এসব ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সামরিক চুক্তির সীমার বাইরে কোনো অভিযানে ব্যবহার করা যাবে না এবং এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না যা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, ইরানবিরোধী এই সামরিক অভিযানে স্পেনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই সিদ্ধান্ত এবং তার জেরে ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি সত্যিই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

