মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তিনি হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশল কী হতে পারে—তা নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় ট্রাম্প যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে তার একটি সম্ভাব্য কৌশলগত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। তার ধারণা অনুযায়ী, যদি পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তেল খাতে সহযোগিতার নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
এই ধারণাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বর্তমান তেল সহযোগিতার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গেও এমন ধরনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারণা মূলত যুদ্ধের পর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করার একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের স্থল হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেননি। বরং আলোচনা হয়েছে সীমিত পরিসরে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে।
অর্থাৎ, কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান নয়; বরং নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে স্বল্প সংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে ধারণা বিনিময় হয়েছে। এমন পদক্ষেপ মূলত বিশেষ নিরাপত্তা বা সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য বিভিন্ন কৌশল ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
যদিও এখনো বিষয়টি প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

