বুধবারের সময়সীমার আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা রবিবার ম্লান হয়ে যাওয়ায়- মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এমনটাই জানিয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, হরমুজ প্রণালী এবং অঞ্চলজুড়ে তেহরানের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হয়েছে।
তবে, সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এই প্রতিবেদনে অন্যান্য সূত্রের মতো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “আলোচনার বিভিন্ন দিক রয়েছে। কিছু বিষয় সঠিক পথে এগোচ্ছে, কিন্তু অন্যগুলোর মধ্যে ব্যবধান এতটাই বেশি যে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।”
আলোচনা সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বুধবারের সময়সীমা বাড়াতে আগ্রহী ছিলেন, যেদিন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তারা আশাবাদী যে আগামী দিনগুলোতে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
রবিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও এই ধারণাকে সমর্থন করে বলেছেন, এ বিষয়ে আরও সময় প্রয়োজন।
কিন্তু তুরস্কের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন যে, ব্যর্থতার ঝুঁকি বাস্তব এবং আলোচনা ভেস্তে গেলে আরও নৃশংস শর্তে নতুন করে লড়াই শুরু হতে পারে।
আলোচনা সম্পর্কে অবহিত কূটনীতিকদের মনোভাব পরিবর্তিত হওয়ার আগে, আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল পাকিস্তানের কাছে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কয়েক বছরের জন্য স্থগিত রাখা; হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন ব্যবস্থা; ইরাক ও লেবাননে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আংশিক নিরস্ত্রীকরণ; এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের পাশাপাশি অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
|
মূল মতবিরোধগুলোর মধ্যে একটি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের সময়কাল। কিছু সূত্র জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য বিরতিতে রাজি হয়েছে, আবার অন্যেরা এর সময়কাল ১২ বছর বলে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ২০ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ চেয়েছিল।
এই সময়কাল শেষে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে পরামর্শ করে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হতে পারে।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, তেহরান তার সম্পূর্ণ উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হওয়ার কাছাকাছি ছিল।
“পাকিস্তান ইউরেনিয়াম একটি তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, যে নীতিটি ইরান মেনে নিয়েছে,” একটি সূত্র এমইই-কে জানিয়েছে। “ইরান গন্তব্য হিসেবে পাকিস্তানের নাম প্রস্তাব করেছিল, যা ইসলামাবাদ গ্রহণ করেছে।”
প্রস্তাবিত চুক্তিটি—যা বিভিন্ন রাজধানীতে আলোচিত হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি—তাতে ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং ওমানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া শুল্ক আরোপের বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজকে প্রণালীটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না, যা ব্রিটিশ ও ফরাসি নৌবাহিনীর এর মধ্য দিয়ে ট্যাংকারগুলোকে এসকর্ট করার পরিকল্পনাকে সম্ভবত ব্যর্থ করে দেবে।
প্রণালীটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না এবং প্রতিবার যাতায়াতের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে।
“ইরানিরা মনে করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে, কারণ শাসনব্যবস্থা এখনও বহাল রয়েছে এবং তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে তাদের মূল শর্তগুলো পূরণ করা হবে,” একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর বিনিময়ে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং বিভিন্ন দেশে জব্দকৃত আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ইরানকে ফেরত দেওয়া হবে।
“চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলেই সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে,” সূত্রটি আরও জানায়।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে না।
অগ্রগতি ব্যাহত
শনিবার হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় অগ্রগতির অনুভূতি ম্লান হয়ে যেতে শুরু করে।
চলমান মার্কিন নৌ অবরোধের কথা উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রণালীটি পুনরায় খোলার পর তারা তা বন্ধ করে দিয়েছিল।
ইরানি সূত্র জানিয়েছে, সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন এবং অবরোধের জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অবরোধ করা হয়েছে, যাকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে মনে করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন, তবে নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন প্রতিনিধিরা সোমবার আলোচনার আরেকটি পর্বের জন্য ইসলামাবাদে যাবেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে আমেরিকা “পুরো দেশটা উড়িয়ে দেবে”।
“তারা দ্রুত এবং সহজে দমন হবে এবং যদি তারা এই চুক্তি গ্রহণ না করে, তবে যা করা উচিত তা করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের বিষয় হবে, যা গত ৪৭ বছর ধরে অন্যান্য রাষ্ট্রপতিদের দ্বারা ইরানের বিরুদ্ধে করা উচিত ছিল। ইরানের এই হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে!” তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ আরও বলেন।
এদিকে, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত তেহরান পাকিস্তানে কোনো আলোচনা দল পাঠাবে কি না, তা নিশ্চিত করেনি।
সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি হলে উভয় পক্ষ তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে।
ইরানের অবস্থান সম্পর্কে অবগত সূত্রমতে, দেশটির কাছে পাঁচ বছরের জন্য পর্যাপ্ত স্বল্প-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ স্থগিত করাকে একটি বড় ধরনের ছাড় হিসেবে দেখবে না।
তবে মার্কিন আলোচকরা এই অচলাবস্থাকে মার্কিন সামরিক হামলার ফলে সৃষ্ট একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করবেন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার মার্কিন প্রশাসনের অধীনে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিটি আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়।
তবে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার ঠিক আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছিলেন যে, তেহরান তার বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে “সর্বনিম্ন সম্ভাব্য স্তরে” নামিয়ে আনতে এবং সেগুলোকে অপরিবর্তনীয় জ্বালানিতে রূপান্তরিত করতে সম্মত হয়েছে।
হিজবুল্লাহ এবং জনপ্রিয় সংহতি বাহিনী
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবটির সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো অঞ্চলজুড়ে ইরানের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ।
খসড়া চুক্তিটিতে প্রভাবশালী আধাসামরিক জোট ইরাকি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর আংশিক বিলুপ্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি বা কোনো ধরনের অনাক্রমণ চুক্তির পথও প্রশস্ত করতে পারে।
সূত্রমতে, পিএমএফ মূলত ইরাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও- এর কয়েকটি ছোট ছোট দল সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দলগুলোকে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে কুয়েত ও জর্ডানের সাথে ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে সরে যেতে হবে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, এই গোষ্ঠীগুলোতে যোদ্ধার সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫,০০০-এ সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে। ধারণা করা হয়, পিএমএফ-এর বাহিনীতে ২,৩৮,০০০ যোদ্ধা রয়েছে।
|
লেবাননে এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর আক্রমণাত্মক অস্ত্রের নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক নিষ্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার আওতায় একটি অনাক্রমণ চুক্তি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য স্বীকৃতি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় থাকবে।
“হিজবুল্লাহ আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখবে, কিন্তু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রধান অস্ত্রগুলো ভেঙে ফেলা হবে,” একজন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে, লেবাননের সংসদের স্পিকার এবং হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র আমাল মুভমেন্টের নেতা নাবিহ বেরি আমেরিকানদের কাছে জানিয়েছেন যে, আত্মরক্ষার জন্য হিজবুল্লাহকে অবশ্যই অস্ত্র রাখতে হবে।
ইরানি সূত্রগুলো এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে তেহরান বারবার বলেছে, তারা পিএমএফ বা হিজবুল্লাহ কাউকেই প্রভাবিত করে না এবং হিজবুল্লাহর সিদ্ধান্তগুলো তাদের নিজস্ব।
অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি লেবাননে কখনোই কার্যকর হবে না।
নিরস্ত্রীকরণের প্রসঙ্গে এক সূত্র বলেছে, “আপনার কি মনে হয় যে লেবাননের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ বিশ লক্ষ মানুষ, তাদের পোশাক খুলে নগ্ন হয়ে রাস্তায় নেমে আসবে?”
“হিজবুল্লাহ ইরানের সৃষ্টি নয়। এটি ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফল। লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরায়েলের হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করতে পারবে না। ইসরায়েল সরে যাবে না। তারা বর্তমানে দক্ষিণে দখল করা বাড়িগুলোতে মাইন পাতছে। হিজবুল্লাহ কখনোই তার আক্রমণাত্মক অস্ত্র ত্যাগ করবে না” সূত্রটি আরো যোগ করেছে।
চুক্তিপত্রের প্যাকেট
কোনো চুক্তি হলে, তা কীভাবে এবং কখন উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, “বিভিন্ন ফাইল নিয়ে চুক্তিপত্রের প্যাকেট” ছিল, কিন্তু সেগুলো কীভাবে ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে কোনো ঐকমত্য ছিল না।
ইরানের ক্ষমতার সব কেন্দ্র প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে কি না, সে বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এতে সম্মত হয়েছেন।
অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, যে হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি নিহত হন, সেই হামলায় খামেনি এতটাই গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন যে, একটি পা হারানোর এবং মুখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না।
এই আশঙ্কাও রয়েছে যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণে যেকোনো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর চাপে গত সপ্তাহে লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ করতে হয়েছিল।
এমন কোনো চুক্তি, যা ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ না করে স্থগিত করার, নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধরে রাখার এবং ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেবে, তা ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট হবে না।
সূত্র সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহু অসন্তুষ্ট হবেন।
ইসরায়েলে এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। নির্বাচনের বছরে চূড়ান্ত বিজয় ছাড়া যুদ্ধবিরতি ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মোসাদ ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করবে কিনা, তা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।
যেসব উপসাগরীয় রাষ্ট্র তাদের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর পাশাপাশি শহরগুলোতে নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হয়েছে, তারাও প্রস্তাবিত শর্তে এই চুক্তিটিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি পরিত্যাগ হিসেবে দেখতে পারে।
যদিও উপসাগরীয় দেশগুলো প্রাথমিকভাবে ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে তদবির করেছিল, সংঘাতের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন ট্রাম্পকে কাজটি শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন কয়েকটি ড্রোন হামলায় অংশ নিয়ে থাকতে পারে, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরবরাহ করা একটি চীনা ড্রোন ইরানে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।
সূত্র: ‘মিডল ইস্ট আই’-এর ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

