মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে কাঁচা (ব্রেন্ট ক্রুড) তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর কমেছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারসূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ সেন্ট কমে ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৩৫ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিলেও একই সঙ্গে জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, তাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অনেক গতি তৈরি হয়েছে।”
তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ সাত মাসের যুদ্ধ বা সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজার কিছুটা বেশি আশাবাদী।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি করেছে। ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
পাইপলাইনটির কার্যক্রম চালু হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

