আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সামরিক সংঘাত এবং সমুদ্রপথে পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার সম্মিলিত অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ সংকুচিত বা সংকুচিত হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত আগের প্রাক্কলনে এই অঞ্চলের জন্য ১.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আইএমএফের এই নতুন পূর্বাভাস আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের রূপান্তরকে নির্দেশ করছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত, ইরাক এবং কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সবচেয়ে বেশি কমার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে যথাক্রমে ১৬.৭ শতাংশ, ১৬ শতাংশ এবং ১৫.৬ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনে ১১.৩ শতাংশ এবং ইরানে ৭.৬ শতাংশ পতনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতি সৌদি আরবও তেলের বিকল্প রুট দিয়ে রপ্তানি ধরে রাখার চেষ্টা সত্ত্বেও ৩.৩ শতাংশ সংকোচনের সম্মুখীন হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই প্রণালীতে দীর্ঘায়িত বিঘ্ন ঘটার কারণে শক্তি খাতভিত্তিক অর্থনীতিগুলোর ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ দিয়ে লোহিত সাগরের দিকে তেল পরিবহন করলেও আঞ্চলিক এই বড় ধাক্কা পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই মন্দার মধ্যেও মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের জিডিপি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে অঞ্চলে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বাক্ষর রাখতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে বিশ্বের একমাত্র এই অঞ্চলটিই অর্থনৈতিকভাবে ঋণাত্মক ধারায় নামতে পারে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যান্য অংশে ইতিবাচক গতিধারা প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেমন; উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ায় ৫.১ শতাংশ, সাব-সাহারান আফ্রিকায় ৪.৫ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে আইএমএফ। বড় অর্থনীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২.৩ শতাংশ, চীনের জন্য ৪.৫ শতাংশ এবং ইউরোজোনের জন্য ১.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট সত্ত্বেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ, যা তাদের আগের পূর্বাভাসের (৩.০ শতাংশ) চেয়ে সামান্য বেশি। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সংঘাতের বিস্তার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন চিন্তাভাবনা, নতুন বাণিজ্যিক চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতির কারণে এই বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে টেকসই রূপান্তর এবং প্রযুক্তিগত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে বলেও মনে করে সংস্থাটি।

