আন্তর্জাতিক বাজারে তামাসহ বিভিন্ন শিল্প ধাতুর দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দর কিছুটা দুর্বল হওয়া এবং প্রযুক্তি খাতে বড় দরপতনের পর শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প ধাতুর বাজারেও। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি তামার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৪ হাজার ৪৮০ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি বছর এ পর্যন্ত ধাতুটির দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ।
তবে সাম্প্রতিক এই উত্থানের আগে তামার বাজারে দরপতনও দেখা গিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার প্রতি টন তামার দাম নেমে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৬ ডলারে পৌঁছায়, যা প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরদিন দাম ঘুরে দাঁড়ালেও পাঁচ সপ্তাহ আগে ছোঁয়া ১৪ হাজার ৮৭৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতার নিচেই রয়েছে। তামার চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আমদানি শুল্কও বাজারের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এদিকে তামা, দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও টিনের বাজারে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য ধাতু কিনতে তিন মাস পর সরবরাহের চুক্তির তুলনায় বেশি দাম দিতে হয়। সাধারণত এমন ব্যবধান নিকটবর্তী সময়ে সরবরাহে টান থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি একাই দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির প্রমাণ নয়; বাজারের সরবরাহ, মজুত ও চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের ধাতুবাজার গবেষক ইয়ান রোপারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী জানুয়ারিতে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় চলতি বছর দেশটিতে পরিশোধিত তামার চালান বেড়েছে। এতে অন্য বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য খালাসের সময়সীমা ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে শুল্ক কার্যকরের আগে পণ্য খালাসের সুযোগ কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য বাজারে তামার সরবরাহ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বছরের শেষ দিকে তামার দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তামার পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ও নিকেলের দামও বেড়েছে। শুক্রবার এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩ হাজার ১১ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়ায়। দস্তার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩ হাজার ৬৯৮ ডলার ৫০ সেন্ট এবং নিকেলের দাম একই হারে বেড়ে ১৫ হাজার ৩৫০ ডলারে পৌঁছায়। সিসা ও টিনের দাম বেড়েছে ০.৫ শতাংশ করে, যার মধ্যে সিসার দাম দাঁড়ায় প্রতি টন ১ হাজার ৮৯০ ডলার এবং টিনের ৫০ হাজার ৩৫০ ডলার।
তবে সব ধাতুর বাজারেই যে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে, এমন পূর্বাভাস নেই। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য না মিললে দাম কমার চাপ আসতে পারে। সোমবার ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এলএমইর বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে ধাতুর উৎপাদক, ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও ব্রোকাররা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করছেন।

