মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলার দাবি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবরে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রয়টার্সের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকির কারণে তেলের দামে বাড়তি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ বেড়ে ১১০.০৭ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের দিনের লেনদেনে দাম ১১০.৭০ ডলারে উঠেছিল, যা ২০ মে’র পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের নভেম্বরের চুক্তির দামও ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.০৩ ডলারে পৌঁছায়। তবে এই চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। তাই বাজারে বেশি সক্রিয় ডিসেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তির দাম তুলনামূলক কম, ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৮০ ডলার ছিল।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা। হুতিরা সোমবার সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, শাইবাহ তেলক্ষেত্র, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও হামলাগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কত দিন থাকবে, তা নির্ভর করছে সরবরাহব্যবস্থায় বাস্তব বিঘ্ন কতটা তৈরি হয় তার ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য বজায় থাকতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এই বাড়তি মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমেও আসতে পারে। এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সম্ভাবনাও বাজারে আলোচনায় রয়েছে। এতে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যদিও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় তেলের দাম উঁচুতে থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার খরচ বাড়তে পারে; তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের দামবৃদ্ধি থেকেই দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ধারণ করা যায় না। আমদানির সময়, চুক্তির ধরন, মজুত এবং সরকারি মূল্যনীতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

