মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সৌদি আরবে প্রাণঘাতী হামলার কারণে দেশটির প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (এফআইআই) নামের এই সম্মেলন আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছেন আয়োজকেরা। রয়টার্সের বরাতে এ খবর জানা গেছে।
সম্মেলনটি আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এবার ছিল সম্মেলনের দশম আসর। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের আদলে এটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘দাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ নামে পরিচিত। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিবছর এই আয়োজন হয় এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে পর্যটন, খেলাধুলা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সৌদি আরবের। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ টানাই এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। এবারের আসরে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান ডেভিড সলোমন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান নির্বাহী বিল উইন্টার্স এবং সিটির প্রধান নির্বাহী জেন ফ্রেজারের।
চলতি বছর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নানা আয়োজনের সূচিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বছরের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বেশ কয়েকটি সম্মেলন বাতিল, স্থগিত বা নতুন করে আয়োজন করা হয়। ওই সময় দেশ দুটি বেশি হামলার শিকার হলেও সৌদি আরবে হামলা তুলনামূলক কম ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় পরিস্থিতি বদলেছে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত বেড়েছে। গোষ্ঠীটি দেশটির সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চলতি মাসে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ।
এফআইআইয়ের আয়োজকেরা বলছেন, অংশগ্রহণকারীরা সম্মেলনের কাছে যে ব্যাপকতা, অসাধারণ মান ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন, তা নিশ্চিত করতেই আয়োজন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থগিতের কারণ হিসেবে তাঁরা নিরাপত্তার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি।
এর মধ্যেই গতকাল সংবাদমাধ্যম সেমাফোর জানায়, বড় ব্যাংক ও প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ানের কাছে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, নিরাপত্তা উদ্বেগই স্থগিতের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আয়োজকেরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সম্মেলন স্থগিতের প্রভাব শুধু একটি আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সৌদি আরব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। এমন সময়ে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের একত্র করার মঞ্চটি পিছিয়ে যাওয়া দেশটির বিনিয়োগ-আকর্ষণের কৌশলের জন্য একটি ধাক্কা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি না বদলালে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। নতুন তারিখ কবে ঘোষণা হয় এবং তত দিনে হামলার ঝুঁকি কতটা কমে, তার ওপরই নির্ভর করবে সম্মেলনের ভবিষ্যৎ।

