চিঠিটি কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি প্রকাশের পাশাপাশি পাঠকদের ঐতিহাসিক দলিলটি দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেন, তিনি সম্প্রতি রাসেলের ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়েছেন। প্রবন্ধটির বক্তব্য তাঁকে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়।
রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে রোমান হরফে সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। একই সঙ্গে শ্লোকটির ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। তাঁর ব্যাখ্যায় মানুষের সীমাবদ্ধ সত্তাকে অতিক্রম করে অসীমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণা উঠে আসে।

রবীন্দ্রনাথের মতে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ সত্তার সীমা অতিক্রম করে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, তখনই সে জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি লাভ করে।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বার্ট্রান্ড রাসেলের সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে দার্শনিক চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের নিদর্শন হিসেবে এই চিঠি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদসহ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। অন্যদিকে ব্রিটিশ দার্শনিক ও লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই চিঠি শুধু দুই নোবেলজয়ী মনীষীর পারস্পরিক যোগাযোগের নিদর্শন নয়, বরং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিক চিন্তার সংলাপেরও একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।

