আজ ৩ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। প্রতিবছর এই দিনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রবাহের মুক্ত পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানা আয়োজন করা হয়।
এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার”। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩ মে তারিখকে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমকর্মীরা দিনটি পালন করে আসছেন।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে ২৬৬ জন সাংবাদিককে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। এই তথ্য গত বছরের ৪ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। এই পরিস্থিতি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আইনের শাসনের কথা যদি বলা হয়, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা এবং দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, নোয়াবের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, প্রতিটি মামলা তদন্ত সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করছে।
তিনি জানান, তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। আর যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। সূত্র: সমকাল
সিভি/এম

