সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও আলোচনা জোরদার হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা এ ইস্যু এখন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
দেশে প্রথমবার পে-স্কেল চালু হয় ১৯৭৩ সালে। এরপর এ পর্যন্ত আটবার নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয় ২০১৫ সালে। সেই থেকে আর কোনো নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি, যদিও মাঝেমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগের কথা শোনা গেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে সময়ের ব্যবধানে বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে বাস্তব জীবনের ব্যয়ের বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত থাকলেও সবচেয়ে বড় শঙ্কা হিসেবে উঠে আসছে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি। তবে জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোকে শুধু আর্থিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। এটি প্রশাসনিক দক্ষতা, কর্মীদের মনোবল এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
গত কয়েক বছরে দেশে নিত্যপণ্যের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। অন্যদিকে গত এক দশকে বিভিন্ন পণ্যের দাম গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এখনও ২০১৫ সালের ভিত্তিতেই রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেলকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে পারছে না।
বিশ্লেষণে বলা হয়, একজন কর্মচারীর বৈধ আয়ে যদি মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা পূরণ না হয়, তাহলে প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো সততা ও পেশাদারিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে প্রতিযোগিতামূলক বেতনের অভাবে অনেক মেধাবী তরুণ সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বিদেশে কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছে। ফলে প্রশাসনে দক্ষ জনবল ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। প্রস্তাবিত কাঠামোতে এটি ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নবম পে-স্কেলের একটি খসড়া তালিকা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। খসড়া অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্যমান বেতন কাঠামো সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান বাস্তবতায় এটি সময়ের দাবি বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নতুন সরকারের জনপ্রশাসনকে গতিশীল ও কার্যকর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় ১১ বছরে দু’টি পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীরা একটি কাঠামোও পাননি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক সরকারি কর্মচারী ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা যায়। মাসিক বেতন থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর অনেকের হাতে যে অর্থ থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেলকে শুধু আর্থিক সুবিধা হিসেবে নয়, বরং ন্যায্য দাবি ও সাংবিধানিক অধিকারের অংশ হিসেবেও দেখার যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসনে দক্ষতা নিশ্চিত করতে হলে কর্মীদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আর্থিক অনিশ্চয়তা থাকলে নাগরিক সেবার মানও প্রত্যাশিত পর্যায়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপকে। আলোচনায় থাকা খসড়া অনুযায়ী বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বেতন খাতে এবং বাকি অংশ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের পেনশনের জন্য ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এই অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই পূর্ণাঙ্গভাবে একবারে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ। এর বিকল্প হিসেবে ধাপে ধাপে বা তিন বছরে ভাগ করে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের প্রস্তাব আলোচনায় আছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আলাদা ও আরও বিকেন্দ্রীকৃত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৃথকভাবে রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন যেমন জরুরি, তেমনি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করলে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, পে-স্কেল কেবল একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও কর্মচারী কল্যাণের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তবে সতর্কবার্তাও রয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহ বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। অনেক সময় বেতন বৃদ্ধির ঘোষণাই বাজারে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম আগেভাগেই বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে বেতন বৃদ্ধি করলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি বেসরকারি খাতেও প্রভাব ফেলে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো সমন্বয় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্য হতে হবে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না।
এই প্রক্রিয়ায় নীতিনির্ধারণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকবে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির তিনটি পৃথক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। এসব সুপারিশ পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে। এই কমিটিকে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয়ের বাস্তবতা এবং বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৈষম্য হ্রাসের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
এদিকে অর্থ বিভাগকে একটি বহুবার্ষিক বাজেট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সেখানে ধাপে ধাপে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, কোন উৎস থেকে তা আসবে এবং কোন খাতের ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হবে—সবকিছু স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দের স্বচ্ছ চিত্র আগেই নির্ধারণ করা না হলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বাস্তবায়ন পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বেতন সমন্বয়ের প্রশাসনিক আদেশ জারি করা। একই সঙ্গে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের দপ্তরকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বেতন বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও কার্যকর রাখা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক কাঠামোতে কেবল জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, বরং মেধা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট ও বিশেষ ভাতার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যারা প্রতি তিন মাস অন্তর পে-স্কেলের প্রভাব এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে।
একই সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যেহেতু একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়ন অর্থনৈতিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারে, তাই বিকল্প সুবিধার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন না বাড়িয়ে চিকিৎসা, আবাসন ও যাতায়াত ভাতা পুনর্বিন্যাস। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাবও রয়েছে। বেতন কমিশনের আগের সুপারিশে ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি করার বিষয়টি উঠে এসেছিল। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বেতন বৈষম্য কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে বিশ্লেষকদের মত। সরকারি কর্মচারীদের পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়নের আওতায় এনে বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাবও গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সরকারি খাতে এমন কিছু পদ রয়েছে যেগুলোর কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এখানে চাকরি থেকে অব্যাহতির পরিবর্তে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মানবসম্পদকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃঢ় প্রশাসনিক নেতৃত্ব ছাড়া পে-স্কেল বাস্তবায়ন কেবল ব্যয় বাড়াবে, কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নবম পে-স্কেল জনপ্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। সফলভাবে এটি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশাসনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে অতীত প্রশাসনিক উদ্যোগের কথাও উঠে আসে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় জনপ্রশাসনে উৎসাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনামলেও দক্ষ জনবল নিয়োগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা যায়।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন কেবল আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রশাসনিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। ধাপে ধাপে এবং পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলেই এটি কার্যকর ফল দিতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
- ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ: অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

