Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, অক্টো. 10, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কেন হামাসের কাছে ৭ অক্টোবরের ঝুঁকির চেয়েও স্থিতাবস্থা বেশি বিপজ্জনক ছিল?
    মতামত

    কেন হামাসের কাছে ৭ অক্টোবরের ঝুঁকির চেয়েও স্থিতাবস্থা বেশি বিপজ্জনক ছিল?

    নিউজ ডেস্কঅক্টোবর 10, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ১০ আগস্ট ২০২৩ তারিখে দক্ষিণ গাজার রাফাহতে কেরেম শালোম ক্রসিংয়ের কাছে অবরোধের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে একজন ফিলিস্তিনি ব্যক্তি "ইসরায়েলি অবরোধ গাজাকে একটি বড় কারাগারে পরিণত করেছে" লেখা একটি ব্যানার ধরে আছেন। ছবি: এএফপি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ফিলিস্তিনিদের ভূমিহীন করা, দখল, অবরোধ এবং সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসকে বিচ্ছিন্ন করে ৭ অক্টোবরের ঘটনা বোঝা সম্ভব নয়। এই পূর্বানুমান দিয়ে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা যায় না যে, ফিলিস্তিনিদের অবশ্যই এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার অধিকারের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হবে, যা প্রজন্ম ধরে তাদের ভূমিহীন করে রেখেছে। সেই অধিকার প্রশ্নাতীত।

    প্রশ্ন হলো, হামাস কেন এই নির্দিষ্ট মুহূর্তে এই বিশেষ পদক্ষেপটি বেছে নিল এবং ৭ অক্টোবরের আগে এর নেতারা যা জানতেন ও যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুমান করতে পারতেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ছিল কি না।

    এতে এই প্রশ্নও ওঠে যে, তাদের সামনে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সঠিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল কি না এবং কোন কৌশলগত মূল্যায়ন তাদের এমন একটি অসাধারণ ঝুঁকি নিতে পরিচালিত করেছিল।

    এই প্রশ্নগুলো অনিবার্যভাবে পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটেই দেখা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বি’ৎসেলেম, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ জেনোসাইড স্কলারস এবং জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের উপসংহার অনুযায়ী, গাজা একটি গণহত্যার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নির্মূল অভিযান এবং গণহত্যার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত করেছে।

    তিন বছর ধরে গাজা এমন মাত্রার ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে, যা ৭ অক্টোবরের আগে খুব কম লোকই কল্পনা করতে পারত।

    বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা সেই সময়ে কী জানতেন, কী ভয় পেতেন এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে কী প্রত্যাশা করতেন, তার ভিত্তিতেই প্রথমে যৌক্তিকতার বিচার করতে হবে। সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত সঠিক ছিল কি না, তা একটি ভিন্ন প্রশ্ন এবং এর উত্তর দেওয়া হয়তো এখনও অকালপক্ব।

    ৭ অক্টোবরের পূর্ববর্তী বছরগুলোতে হামাসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে এমন এক নেতৃত্বের চিত্র ফুটে ওঠে, যারা ক্রমশ এই ব্যাপারে নিশ্চিত হচ্ছিল যে, স্থিতাবস্থা নিজেই একটি কৌশলগত হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

    গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জব্দ করা যে অভ্যন্তরীণ নথিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই চিত্রটি তৈরি হয়েছে, তার বেশিরভাগই প্রকাশ করেছে মেইর অমিত ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড টেররিজম ইনফরমেশন সেন্টার—সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি ইসরায়েলি গবেষণা কেন্দ্র এবং এগুলো হামলার আগের বছরগুলোতে হামাসের গাজা নেতাদের চিন্তাভাবনার একটি অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

    পাঁচটি ঘটনা সেই হিসাবকে রূপ দিয়েছিল: গাজার অবরোধ; পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উপনিবেশায়ন; জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদ নিয়ে সংঘাত; ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দি এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ, বিশেষ করে সৌদি-ইসরায়েল চুক্তির সম্ভাবনা।

    পাঁচটির প্রত্যেকটি থেকেই একই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, সময় নিরপেক্ষ নয়। অপেক্ষা করাটাও ছিল একটি সিদ্ধান্ত, এবং হামাস ক্রমশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে, এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের বিকল্পগুলোকে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে

    অবরোধ, বসতি স্থাপনকারী, আল-আকসা

    প্রথমে গাজাকে ঘিরে অবরোধ শুরু হয়। ২০২৩ সাল নাগাদ এই অবরোধ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং ২২ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি একটি সংকীর্ণ উপকূলীয় ভূখণ্ডে আটকা পড়েছিল, যেখানে তাদের চলাচল, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ ছিল। গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।

    বর্তমান যুদ্ধের আগেও, ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং সে বছরের শেষের দিকে যুব বেকারত্ব ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

    গাজার জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত এবং ১২ লক্ষ ফিলিস্তিনি শরণার্থী তাদের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর জরুরি খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

    হামাস গাজা শাসন করলেও অবরোধের অবসান ঘটাতে পারেনি। পর্যায়ক্রমিক সংঘাত জায়নবাদী শাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও মৌলিক সমীকরণটি বদলাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ধ্বংসের পর সীমিত পুনর্গঠন হয়েছিল, আলোচনার ফলে সাময়িক শিথিলতা এসেছিল, কিন্তু অবরোধটি বহালই ছিল।

    সুতরাং, পছন্দটা কখনোই কেবল যুদ্ধ আর শান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিজেই অব্যাহত সহিংসতা, শ্বাসরোধ এবং অবনতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

    পশ্চিম তীর একটি ভিন্ন কিন্তু সমান জরুরি বিপদ সৃষ্টি করেছিল। বসতি সম্প্রসারণ একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ডগত ভিত্তিকে ক্রমাগত ধ্বংস করে দিচ্ছিল। ২০২৩ সাল নাগাদ, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছিল, যে বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ।

    ২০২২ সালের শেষের দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গঠিত সরকার বেজালেল স্মোট্রিচের মতো ব্যক্তিদের পশ্চিম তীরে অভূতপূর্ব প্রভাবশালী পদে অধিষ্ঠিত করে। স্মোট্রিচ ফিলিস্তিনিদের সামনে প্রকাশ্যে তিনটি বিকল্প রেখেছিলেন: জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই ইসরায়েলি শাসন ও আধিপত্য মেনে নেওয়া, দেশত্যাগ করা, অথবা প্রতিরোধ করলে প্রাণঘাতী শক্তির মুখোমুখি হওয়া।

    হামাসের জন্য, এর কৌশলগত প্রভাব শুধু বসতিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সময় যে ফিলিস্তিনিদের অনুকূলে ছিল, এমনটা নয়। প্রতিটি অতিরিক্ত বছর ভূখণ্ডের বিভাজন বাড়াচ্ছিল, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করছিল এবং এই প্রক্রিয়াটি পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে, কৌশলগত ধৈর্য শেষ পর্যন্ত কৌশলগত পক্ষাঘাতে পরিণত হতে পারত।

    জেরুজালেম ও আল-আকসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ২০২১ সালের মে মাসের সাইফ আল-কুদস সংঘাতটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভাজন নির্বিশেষে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে আল-আকসার অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল।

    হামাসের কাছে এই সংঘাতটি গাজা ও জায়নবাদী শাসনের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধের চেয়েও বৃহত্তর কিছুর প্রতীক ছিল। এটি যেন একটি একক জাতীয় সংগ্রামের আওতায় গাজা, জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, ১৯৪৮ সালের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরের ফিলিস্তিনি, বন্দি এবং প্রবাসী সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছিল।

    ২০২২ এবং ২০২৩ সালের ঘটনাপ্রবাহ আল-আকসা নিয়ে হামাসের আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তোলে। আল-আকসায় বারবার ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ, উপাসকদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং চত্বরটি নিয়ে ইসরায়েলি ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান জোরালো দাবি-দাওয়া এই আশঙ্কা তৈরি করে যে, বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

    হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের অভিজ্ঞতা, যা প্রথমে বিভক্ত এবং পরে ক্রমবর্ধমানভাবে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল, একটি অশুভ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। হামাসের কাছে মনে হচ্ছিল, ফিলিস্তিনিদের আরেকটি অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা ক্ষয়ে যাচ্ছে।

    বন্দী এবং স্বাভাবিকীকরণ

    বন্দীরা চতুর্থ একটি চাপ সৃষ্টি করেছিল। ৭ অক্টোবরের আগে থেকেই নারী ও শিশুসহ ৫,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে আটক ছিল এবং ১,২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল।

    জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী হওয়ার পরপরই ইতামার বেন গভির ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করেন।

    বন্দী বিনিময়ের ইতিহাস এক ভিন্ন শিক্ষা দেয়। ১৯৮৫ সালের জিবরিল চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের হাতে বন্দী ১,১৫০ জন বন্দীর মুক্তি নিশ্চিত হয়েছিল এবং ২০০৪ ও ২০০৮ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর বন্দী বিনিময় একই নীতিকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

    হামাসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০১১ সালের গিলাদ শালিত বিনিময়ের ফলে একজন বন্দী ইসরায়েলি সৈন্যের বিনিময়ে ১,০২৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পেয়েছিল।

    উপসংহারটি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। যেখানে কূটনীতি প্রায়শই ব্যর্থ হতো, সেখানে বন্দীরা দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করত। তাই ইসরায়েলি সৈন্যদের বন্দী করাটা ৭ অক্টোবর উদ্ভাবিত কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত যুক্তির অংশ ছিল।

    পঞ্চম ঘটনাটি, অর্থাৎ স্বাভাবিকীকরণ, সম্ভবত সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ২০২৩ সাল নাগাদ, হামাস এমন একটি আঞ্চলিক রূপান্তর নিয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, যা ফিলিস্তিন প্রশ্নটিকে পুরোপুরি প্রান্তিকীকরণের হুমকি দিচ্ছিল।

    ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তি দেখিয়েছিল যে, আরব সরকারগুলো ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না করেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারে। বাইডেন প্রশাসন এখন সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আরও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যটি অনুসরণ করছিল।

    ৭ অক্টোবরের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এর প্রতীকী তাৎপর্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু তাঁর “নতুন মধ্যপ্রাচ্য”-এর রূপকল্প তুলে ধরেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল স্বাভাবিকীকরণ এবং এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপকে সংযোগকারী একটি অর্থনৈতিক করিডোর।

    তিনি যে মানচিত্রটি প্রদর্শন করেছিলেন, তাতে কার্যত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনকে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ছাড়াই ইসরায়েল হিসেবে দেখানো হয়েছিল। হামাসের কাছে, ফিলিস্তিন কৌশলগতভাবে পুরোপুরি উপেক্ষিত হওয়ার বিপদটি ছিল সুস্পষ্ট।

    এই প্রেক্ষাপটেই হামাস তার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গাজা অবরুদ্ধ ছিল, পশ্চিম তীরে উপনিবেশ গড়ে উঠছিল, আল-আকসা ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়েছিল, হাজার হাজার বন্দী কারাগারে আটক ছিল এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ফিলিস্তিনকে আঞ্চলিক রাজনীতির আরও প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

    এর কোনোটিই প্রমাণ করে না যে, ৭ অক্টোবরই একমাত্র কার্যকর পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এটি দেখায় যে, অভিযানটি একটি শনাক্তযোগ্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাবনিকাশ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।

    যৌক্তিকতার বিচার

    যৌক্তিকতার বিচার ঘটনার পূর্বে করতে হবে, ঘটনার পরে নয়। গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখার পর, পেছনের দিকে যুক্তি দিয়ে এই সিদ্ধান্তে আসাটা খুবই স্বাভাবিক যে, এমন ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তই নিশ্চয়ই অযৌক্তিক ছিল। কিন্তু কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোকে এভাবে ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।

    হামাসের বিচার বিবেচনা করার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা আবশ্যক। গাজার গণহত্যা ও ধ্বংসের দায় জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যারা একে সহায়তা করেছে তাদের ওপর বর্তায়। এখানে প্রশ্ন হলো, হামাস এই প্রতিক্রিয়ার যথাযথ পূর্বাভাস দিয়েছিল কি না এবং এটিকে তার কৌশলগত গণনার অন্তর্ভুক্ত করেছিল কি না; যা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের কারণে ইসরায়েলের এই আচরণ হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন থেকে ভিন্ন একটি বিষয়।

    হামাস নিশ্চিতভাবেই একটি ব্যাপক ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা করেছিল। কোনো বিচক্ষণ নেতাই বিশ্বাস করতে পারেননি যে, গাজার নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন, সামরিক ঘাঁটি দখল, শত শত ইসরায়েলি সৈন্য ও বসতি স্থাপনকারীর হত্যা এবং বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলিকে বন্দী করার মতো একটি অভিযান ইসরায়েল কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু না করেই সামলে নেবে।

    হামাসও নিশ্চয়ই ব্যাপক মার্কিন সমর্থনের প্রত্যাশা করেছিল, কারণ গাজার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ইসরায়েলি যুদ্ধগুলো উভয়েরই যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছিল।

    তথাপি, একটি ভয়াবহ সামরিক আক্রমণের পূর্বাভাস দেওয়া আর এর পরে সংঘটিত নজিরবিহীন যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী করা—দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এক গণহত্যা অভিযান; প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি; গাজার বিশাল অংশের ভৌত ধ্বংসযজ্ঞ এবং বিশ্বব্যাপী কড়া নজরদারি সত্ত্বেও পরিচালিত এক অনাহার ও বঞ্চনার অভিযান—এসব ছিল এমন বিষয়, যা আগাম অনুমান করা কঠিন ছিল।

    মার্কিন সমর্থন সম্পূর্ণরূপে অনুমেয় ছিল, কিন্তু এর মাত্রা ও স্থায়িত্ব ছিল নজিরবিহীন। ক্রমবর্ধমান ফিলিস্তিনি মৃত্যুর সংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য এবং কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রদান অব্যাহত রেখেছিল।

    ইউরোপের প্রধান সরকারগুলো মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই মিত্র ছিল, অন্যদিকে আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এর প্রত্যেকটিই ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের মূল্যায়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

    ইরান, হিজবুল্লাহ এবং বৃহত্তর প্রতিরোধ অক্ষ একটি পৃথক প্রশ্ন উত্থাপন করে। হামাস বছরের পর বছর ধরে এই সম্পর্কগুলো গড়ে তুলেছিল এবং এই অঞ্চলের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছিল।

    ২০২১ সালে সাইফ আল-কুদসের পর, এর অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করার আগ্রহ ক্রমশই প্রতিফলিত হতে থাকে।

    প্রামাণ্য নথি এই সরলীকৃত দাবিকে সমর্থন করে না যে, ইরান বা হিজবুল্লাহ একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় হামাস ৭ অক্টোবরের হামলা শুরু করেছিল।

    হামাস গভীরতর সমন্বয় চেয়েছিল, একাধিক রণাঙ্গন ও বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিল এবং বুঝতে পেরেছিল যে, লেবানন ও অন্যান্য স্থানের চাপ ইসরায়েলের সামরিক হিসাব-নিকাশকে জটিল করে তুলতে পারে।

    এর নেতারা ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছিল, কিন্তু এই যোগাযোগ কোনো বাধ্যতামূলক সামরিক জোট ছিল না।

    একইভাবে, প্রমাণে এটা প্রতিষ্ঠিত হয় না যে, ইরান বা হিজবুল্লাহ ৭ অক্টোবরের সময়কাল ও কার্যপরিচালনার বিস্তারিত বিবরণ আগে থেকে জানত। আর হামাসের কাছে যে এই মর্মে কোনো নিশ্চয়তা ছিল যে, তাদের কোনো একটি অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, সে তো দূরের কথা।

    ভুল গণনা এবং বিকল্পগুলো

    যদি হামাস এই প্রত্যাশায় অভিযানটি শুরু করে থাকে যে, ইরান ও হিজবুল্লাহ অবিলম্বে একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, তাহলে তাদের কৌশলের একটি কেন্দ্রীয় ধারণা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ব্যর্থ হয়ে গেছে।

    বরং প্রাপ্ত প্রমাণাদি এটাই নির্দেশ করে যে, তারা অতিরিক্ত রণাঙ্গনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টির প্রত্যাশা করেছিল, যা অগত্যা তাৎক্ষণিক সর্বাত্মক যুদ্ধ সৃষ্টি না করেই ইসরায়েলের ওপর সামরিক ও কৌশলগত ব্যয়ভার চাপিয়ে দেবে।

    সেটা ঘটেছিল বটে, যদিও গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় তা ঘটেনি।

    হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে একটি সমর্থন ফ্রন্ট খোলে, হুথিরা ইয়েমেন থেকে হস্তক্ষেপ করে, ইরাকি গোষ্ঠীগুলো আমেরিকান অবস্থানগুলোতে হামলা চালায় এবং আক্রমণের শিকার হওয়ার পর ইরান নিজেও অবশেষে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

    যদি কোনো কৌশলগত ভুল হয়ে থাকে, তবে তা ছিল বেশ কয়েকটি প্রতিকূল ঘটনার যুগপৎ সংঘটন অনুমান করতে না পারার মধ্যে:

    একটি ইসরায়েলি আক্রমণ, যা কার্যত পূর্বের প্রতিটি সীমা অতিক্রম করেছিল;

    গণহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন;

    আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর চরম দুর্বলতা;

    প্রতিরোধ অক্ষশক্তির মধ্যে সীমিত সমন্বয়, যার সদস্যরা অভিযানের সময় নিয়ে বিস্মিত হয়েছিল এবং পশ্চিম তীর কিংবা গ্রিন লাইনের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠতে ব্যর্থতা।

    হামাস যুক্তিসঙ্গতভাবেই এই বাধাগুলোর মধ্যে কয়েকটি আলাদাভাবে অনুমান করতে পারত। এই সবগুলো একসঙ্গে, এই মাত্রায় ঘটবে—তা আগে থেকে অনুমান করতে না পারাটা একটি গুরুতর দুর্বলতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

    ৭ অক্টোবর সম্পর্কিত প্রতিটি রায়কে আরও একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়: কিসের তুলনায়?

    হামাসের কাছে বিকল্প ছিল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইয়াহিয়া সিনওয়ার ইতিমধ্যেই সেগুলোর কয়েকটি চেষ্টা করে দেখেছিলেন।

    ২০১৭ সালে গাজায় নেতৃত্ব গ্রহণের পর, সিনওয়ার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি গাজার প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পিএ-কে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ইসরায়েলি ও আমেরিকান বিরোধিতার কারণে এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

    হামাস মিশরীয় ও কাতারি মধ্যস্থতায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিল। ২০১৮-১৯ সালে, গাজার ফিলিস্তিনিরা ‘গ্রেট মার্চ অফ রিটার্ন’-এর মাধ্যমে মূলত শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনে নামে, কিন্তু এর জবাবে ইসরায়েলিরা ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে এবং শিশুসহ হাজার হাজার মানুষকে আহত করে।

    হামাস তখনও সংযম, আরও কূটনীতি, সীমিত উত্তেজনা বৃদ্ধি, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা অথবা নিছক সাংগঠনিক অস্তিত্ব রক্ষার পথ বেছে নিতে পারত।

    এর ২০১৭ সালের ‘সাধারণ নীতি ও কর্মপন্থার দলিল’ ইতোমধ্যেই যথেষ্ট রাজনৈতিক নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছিল, যেখানে জায়নবাদী প্রকল্পের বৈধতা স্বীকার না করেই ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর একটি পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে জাতীয় ঐকমত্যের একটি সূত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।

    ২০২৩ সাল নাগাদ হামাসের নেতাদের ঠিক এই পন্থাগুলো নিয়েই বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই অবরোধের অবসান ঘটাতে, বসতি সম্প্রসারণ থামাতে, আল-আকসা রক্ষা করতে, হাজার হাজার বন্দীকে মুক্ত করতে বা আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে উল্টে দিতে পারেনি।

    ৭ অক্টোবরের সিদ্ধান্তের বহুলাংশে করা পশ্চাৎমুখী সমালোচনার এটাই দুর্বলতা। সিদ্ধান্তটি যে কৌশলগতভাবে ভুল বা অযৌক্তিক ছিল, তা প্রমাণ করার জন্য এর পরবর্তী বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট নয়। ৬ অক্টোবরে উপলব্ধ বাস্তবসম্মত বিকল্পটি চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রশ্ন করতে হবে যে, সেই বিকল্পটি সম্ভবত কোন দিকে নিয়ে যেত।

    অপেক্ষা করাটাও একটি সিদ্ধান্ত ছিল এবং হামাস এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, অপেক্ষা করার অর্থ হলো কৌশলগত পরিবেশের অবনতি হতে দেওয়া, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

    সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কি না, তা অন্য প্রশ্ন, কিন্তু তা অযৌক্তিক ছিল না।

    খরচ এবং পরিণতি

    সুতরাং হামাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, ৭ অক্টোবরের সিদ্ধান্তটি কি সঠিক ছিল? এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কঠিন এবং আমার মনে হয় না এর কোনো চূড়ান্ত উত্তর এখনো দেওয়া সম্ভব।

    এর মানবিক মূল্য ভয়াবহ। কমপক্ষে ৭৪,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং সম্ভবত আরও হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১,৭৫,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

    গাজার অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের অনেকেই বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পরিবার, পাড়া-মহল্লা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ, গির্জা এবং এই অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামোর বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে।

    কোনো কৌশলগত মূল্যায়নই সেই বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না এবং কেউই সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি বিসর্জন দিতে পারে না।

    গাজায় ইসরায়েলের আচরণের দায় জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যারা একে সক্ষম করেছে ও সমর্থন জুগিয়েছে, তাদের ওপর বর্তায়।

    যে শক্তির প্রতিরোধ করা হচ্ছে, সেই শক্তির দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য প্রতিরোধকে দায়ী করা যায় না।

    অন্যথায়, শক্তিশালী পক্ষ এক অসাধারণ ভেটো ক্ষমতা লাভ করে, কারণ বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট নৃশংসতার হুমকি দিলেই পরবর্তীকালে আরোপিত শাস্তির কারণে যেকোনো প্রতিরোধমূলক কাজ কৌশলগতভাবে বা নৈতিকভাবে অবৈধ হয়ে যেতে পারে।

    এটি মানদণ্ড হতে পারে না।

    তা সত্ত্বেও, গণহত্যার দায় যার ওপর বর্তায় তার ওপর চাপিয়ে দিলেও, তা ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে তাদের নিজেদের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখার দায় থেকে অব্যাহতি দেয় না।

    একটি প্রতিরোধ আন্দোলনের দায়িত্ব হলো তার সক্ষমতা, পরিণতি, বিকল্প এবং মিত্র ও শত্রুদের সম্ভাব্য আচরণ মূল্যায়ন করা। এ কারণেই ৭ অক্টোবরের জন্য স্লোগানের চেয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

    ৭ অক্টোবরের হামলা নিঃসন্দেহে ফিলিস্তিন প্রশ্নের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। ওই দিনের আগে মনে হচ্ছিল, ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রান্তিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    আব্রাহাম চুক্তি এমন একটি আঞ্চলিক মডেল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যার মাধ্যমে আরব সরকারগুলো ফিলিস্তিনি অধিকারের সমাধান না করেই জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারত।

    সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এগিয়ে যাচ্ছিল, এবং নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সামনে দাঁড়িয়ে এক নতুন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র প্রদর্শন করতে পারতেন, যেখান থেকে ফিলিস্তিন কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।

    সেই দিনটি সেই গতিপথকে ভেঙে দিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল।

    ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার আচরণ কয়েক দশকের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশ্বের বহু অংশে একটি নতুন প্রজন্ম শুধু ইসরায়েলি নীতি নিয়েই নয়, বরং জায়নবাদ, বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদ, নাকবা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

    এই যুদ্ধ পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত গভীর দ্বন্দ্বগুলোকেও উন্মোচিত করেছিল।

    আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার জন্য সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল, যার পরিণতি তাদের বৈধতার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল এবং বৈশ্বিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছিল, যদিও সরকারি নীতিগুলো এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিল।

    রূপান্তর বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।

    গাজাকে প্রায় অকল্পনীয় মূল্য দিতে হয়েছে। ফিলিস্তিনি সমাজ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে, আঞ্চলিক ভারসাম্য এখনও অস্থিতিশীল এবং হামাস, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, জায়নবাদী রাষ্ট্র ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ওপর এর পরিণতি এখনও প্রকাশ পাচ্ছে।

    সুতরাং, ৭ অক্টোবরকে একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত বিজয় কিংবা একটি বিপর্যয়কর কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে ঘোষণা করা এখনও অকালপক্ব।

    ইতিহাস খুব কমই এত বড় মাপের কোনো ঘটনার রায় দেয়, যখন তার পরিণতি তখনও প্রকাশ পেতে থাকে।

    ইতিহাসের রায়

    ১৯৩৬ সালের ফিলিস্তিনি বিদ্রোহ ১৯৩৯ সাল নাগাদ পরাজিত বলে মনে হয়েছিল।

    প্রথম ইন্তিফাদার ফলস্বরূপ অবশেষে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা প্রাথমিকভাবে অনেকের কাছে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে প্রশংসিত হলেও পরবর্তীতে বিভাজন, নিরাপত্তা সমন্বয়, বসতি সম্প্রসারণ এবং একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।

    ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তাদের পূর্ণ তাৎপর্য লাভ করে এমন সব পরিণতির মাধ্যমে, যা প্রকাশ পেতে কয়েক বছর, এমনকি কয়েক দশকও লেগে যেতে পারে।

    ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে জাতিসমূহ আক্রমণ, দখলদারিত্ব এবং বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে চরম দুর্ভোগ সহ্য করেছে, কিন্তু সেই দুর্ভোগই চূড়ান্ত ঐতিহাসিক পরিণতি নির্ধারণ করেনি।

    নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করতে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ২ কোটি বা তারও বেশি মানুষ হারিয়েছিল।

    ফরাসি ঔপনিবেশিকতা এবং আমেরিকান হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের যুদ্ধে ভিয়েতনাম লক্ষ লক্ষ মানুষ হারিয়েছিল, অবশেষে পুনরেকত্রীকরণ ও স্বাধীনতা অর্জনের আগে।

    একইভাবে, আফগানিস্তানও দুই দশক ধরে আমেরিকান দখলদারিত্ব সহ্য করেছিল, বিপুল মানবিক মূল্য দিয়ে, অবশেষে ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করার আগে।

    এই অভিজ্ঞতাগুলোর কোনোটিই ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য নয় এবং কোনোটিকেই যান্ত্রিকভাবে এর সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। এগুলো যা দেখায় তা হলো, কোনো জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের মাত্রা নিজে থেকেই নির্ধারণ করতে পারে না যে, প্রতিরোধের সিদ্ধান্তটি কৌশলগতভাবে ভুল ছিল কি না।

    সেই বিচার শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সংগ্রামটি কী অর্জন করে, কী কী বিকল্প ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিণতিগুলো কীভাবে উন্মোচিত হয় তার ওপর।

    এই অভিযানটি শেষ পর্যন্ত একটি বিধ্বংসী কৌশলগত ভুল হিসাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, অথবা এটি এমন একটি মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে, যখন একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক ব্যবস্থা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নটি ঐতিহাসিক মঞ্চে পুনরায় আবির্ভূত হতে বাধ্য হয়েছিল।

    এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সিদ্ধান্তটি একটি সুসংহত কৌশলগত মূল্যায়নের ফলস্বরূপ নেওয়া হয়েছে।

    হামাস এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, স্থিতাবস্থা টেকসই নয়, কারণ সময় ফিলিস্তিনিদের বিকল্পগুলোকে ক্রমাগত সংকুচিত করে আনছে। এবং এর নেতারা সেই গতিপথ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    তারা মূল্যটি সঠিকভাবে গণনা করেছিল কি না, তা অন্য বিষয়।

    একটি কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করার অর্থ এমন এক গণহত্যা অভিযানের প্রত্যাশা করা ছিল না, যা ধ্বংসের প্রতিটি ঐতিহাসিক সীমা অতিক্রম করবে।

    এটাও অস্পষ্ট যে, তারা ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমাদের ধারাবাহিক সমর্থনের মাত্রা, আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর প্রতিক্রিয়ার দুর্বলতা, আঞ্চলিক সামরিক হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা কিংবা পশ্চিম তীর এবং ১৯৪৮ সালের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে থাকা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে সীমিত বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছিল কি না।

    ৭ অক্টোবরের হামলা চালানোর সিদ্ধান্তটিকে একটি কৌশলগত পছন্দ হিসেবে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    এটিকে কেবল এক অব্যাখ্যেয় সহিংস বিস্ফোরণ হিসেবে গণ্য করা যায় না, তবে একে সমালোচনার ঊর্ধ্বেও রাখা উচিত নয়।

    কাজটি হলো হামাস কী জানত, কী ভয় পেত, কী বিকল্প অবশিষ্ট ছিল এবং ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি জনগণ, প্রতিরোধ অক্ষশক্তি, আরব ও মুসলিম বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করত, তা পুনর্গঠন করা।

    এরপর সেই প্রত্যাশাগুলোর সঙ্গে বাস্তবে যা ঘটেছে তার তুলনা করা।

    সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ছিল কি না, তা বিচার শুরু করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

    এটি চূড়ান্তভাবে সঠিক ছিল কি না, তা বিচার করতে হলে ৭ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পরিণতি সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি সংগ্রামের অবস্থান কোথায়, তা জানা প্রয়োজন।

    আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি।

    ইতিহাসের রায় এখনো অমীমাংসিত।

    • সামি আল-আরিয়ান: ইস্তাম্বুল জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স (সিআইজিএ)-এর পরিচালক। তিনি মূলত ফিলিস্তিনের অধিবাসী। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ নিহত ৯

    অক্টোবর 10, 2026
    আন্তর্জাতিক

    নাভি পিল্লাই: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী যোদ্ধা কে এই নারী?

    অক্টোবর 10, 2026
    মতামত

    উন্নয়নের উজ্জ্বল গল্পের আড়ালে ফিরছে দারিদ্র্য, ফাঁক কোথায়?

    অক্টোবর 10, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.