বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা, স্থিতিশীলতা ও সুশাসন—এই তিনটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি গ্রাহকের বিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক- কে ঘিরে দেখা দেওয়া অস্থিরতা, আমানতকারীদের উদ্বেগ, তারল্য নিয়ে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য-গুজব আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার কথা জানিয়েছে, তবুও জনমনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা প্রমাণ করে যে আর্থিক খাতে আস্থার সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণের চাপ, মালিকানা ও পরিচালনায় পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রক তদারকির কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সম্মিলিত প্রতিফলন। তাই এই অস্থিরতার প্রকৃত কারণ, এর বহুমাত্রিক প্রভাব এবং উত্তরণের বাস্তবসম্মত পথ নিয়ে তথ্যভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী-ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে বর্তমানে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৫১ শতাংশ, যা ঋণপোর্টফোলিওর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সম্পদের গুণগত মানের অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।প্রচলিত ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির প্রায় ৮৮ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করার কথা। তবে বাস্তবে ব্যাংকটি এ পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় অনেক কম।
ব্যাপক আমানত উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট তারল্যচাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলন নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ তারল্য সহায়তা হিসেবে ধাপে ধাপে অর্থ সরবরাহ করেছে, যাতে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায় এবং আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট আরও গভীর না হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে বিশেষ তারল্য সহায়তার প্রথম ধাপে ২,৫০০ কোটি টাকা প্রদান করে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানায়। ঈদুল আজহার পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও অস্থিরতার পাশাপাশি গ্রাহকদের একাংশের অতিরিক্ত আমানত উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটিতে সাময়িকভাবে নগদ অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আমানতকারীদের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষিত রয়েছে এবং অর্থ উত্তোলনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে তারল্য সংকট মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) সতর্ক করে বলেছে, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, আমানতকারীদের আস্থা এবং আর্থিক বাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং গুজব প্রতিরোধে কার্যকর যোগাযোগই আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রধান পূর্বশর্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক-কে ঘিরে চলমান অস্থিরতা কোনো একক ঘটনার ফল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট আর্থিক, প্রশাসনিক ও সুশাসনসংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মিলিত প্রতিফলন। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকটির ওপর এস আলম গ্রুপের প্রভাব, তাদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগ, করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতা এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিভিন্ন অনুসন্ধান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিতরণ করা বিপুল ঋণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুরুতর অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে।এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং তারল্য ব্যবস্থাপনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয়। নতুন পর্ষদ ও চেয়ারম্যান নিয়োগের পর বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের একাংশ, শেয়ারহোল্ডার এবং ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আপত্তি ও আন্দোলন শুরু হয়। নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এই বিরোধ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে এবং জনমনে নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়।
একই সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং পরিবর্তিত অবস্থানের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। ফলে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হয়।
এদিকে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়মের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগের অভিযোগও ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা চলছে, তবুও সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এসব ঘটনার পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আমানতকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাবে একাংশের গ্রাহক বড় অঙ্কের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বারবার ব্যাংকের কার্যক্রম সচল থাকার আশ্বাস দিয়েছে, তবুও আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলমান সংকট থেকে উত্তরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকর করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠন—এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি।
ব্যাংকিং খাতের মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। একটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আমানতকারীদের বিশ্বাসে চিড় ধরলে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চাপে পড়তে পারে। কারণ ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানতের ওপর নির্ভর করেই ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে আতঙ্ক বা গুজবের কারণে যদি বিপুলসংখ্যক গ্রাহক একই সময়ে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করেন, তাহলে সাময়িকভাবে তারল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যদিও সেটি সবসময় ব্যাংকের দেউলিয়াত্বের নির্দেশক নয়।
ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক হওয়ায় এর স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত, আর্থিক বাজার এবং জনআস্থার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের বড় কোনো ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব অন্যান্য ব্যাংকের প্রতিও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের একটি বড় গ্রাহকগোষ্ঠী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা বা আস্থার সংকট দেখা দিলে কিছু গ্রাহক বিকল্প শরিয়াহভিত্তিক বা প্রচলিত ব্যাংকে আমানত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ কারণে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, কার্যকর করপোরেট সুশাসন, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অটুট রাখা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রাহকদের অতিরিক্ত আমানত উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট তারল্যচাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে, যাতে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। প্রথম ধাপে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি ব্যাংকটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন প্রশাসক নিয়োগ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালককে এই দায়িত্ব দিয়ে ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আমানতকারীদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, গ্রাহকদের বৈধ আমানত সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, কার্যকর করপোরেট সুশাসন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অস্থিরতা কোনো একক ঘটনার ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের সুশাসনের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আস্থার সংকটের সম্মিলিত প্রতিফলন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ। একই সঙ্গে গুজবের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সময়োপযোগী উদ্যোগই গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক আস্থার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত।

