বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত মসজিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম মসজিদ রয়েছে সিলেট বিভাগে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে সম্প্রতি এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগ প্রণীত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে মোট মসজিদের সংখ্যা ৭১ হাজার ৫৯৬টি, যা দেশের মোট মসজিদের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। জনসংখ্যার ঘনত্ব, বিস্তৃত নগরায়ণ এবং বিপুল সংখ্যক গ্রামীণ জনপদ থাকায় ঢাকা বিভাগে মসজিদের সংখ্যাও অন্য সব বিভাগের তুলনায় বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মসজিদের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মোট মসজিদ রয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৩টি। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৪৫ হাজার ৮৭৯টি, রংপুর বিভাগে ৪৫ হাজার ৭৯২টি, বরিশাল বিভাগে ৩৫ হাজার ৬৯১টি, খুলনা বিভাগে ৩৪ হাজার ৫৮৬টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ হাজার ২১২টি এবং সিলেট বিভাগে ২২ হাজার ৬টি মসজিদ রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এই দুই বিভাগেই দেশের মোট মসজিদের বড় একটি অংশ অবস্থিত। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে কম হলেও জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং বসতির ধরন বিবেচনায় এই পরিসংখ্যানকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মসজিদের বিভাগভিত্তিক হিসাবের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলাভিত্তিক পৃথক তালিকাও প্রস্তুত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এসব তথ্য ভবিষ্যতে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কারণে কোথাও কোথাও সামান্য ত্রুটি বা তথ্যগত অসামঞ্জস্য থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এর আগে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও মসজিদের একটি জাতীয় তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার বেড়েছে। নতুন মসজিদ নির্মাণ, পুরোনো মসজিদের নিবন্ধন এবং তথ্য হালনাগাদের কারণে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় অবকাঠামোর এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদের বিস্তৃতি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ধর্মবিষয়ক বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

