ঢাকার সাভারে আগামী ২৬ ও ২৭ আগস্ট একটি ওরস আয়োজন বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় স্মারকলিপি দিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’র পক্ষের একটি দল। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের নেতারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আয়োজিত ওরসে ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর ও ইসলামবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়। এ কারণে অনুষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে ১০ জন স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীর বলেন, তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে তার বাবার ওফাত উপলক্ষে বাড়িতে ঘরোয়াভাবে ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তার ভাষ্য, এবারও বাড়ির সীমানার মধ্যেই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাইরে প্যান্ডেল বা মাইক ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও ওরসকে কেন্দ্র করে হামলার আশঙ্কা থাকায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
ওরস বন্ধের দাবিদারদের কেউ কেউ বলছেন, তাদের মূল আপত্তি ওরসের বিরুদ্ধে নয়; বরং আয়োজকের কথিত ধর্মীয় বক্তব্য ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী দাবি করেন, জাবের আল জাহাঙ্গীরের বক্তব্যে কোরআন-হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। এ কারণে আইন অনুযায়ী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তর শাখার মহাসচিব মাওলানা আলী আজমও একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রধান বিষয়। ওরস নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাভার থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একই এলাকায় মাজার ও সংশ্লিষ্ট বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অতীত ঘটনার কারণে এবার ওরসকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি না হয়—এ বিষয়টিই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

