চলতি রমজানের চতুর্থ দিন, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যায় নতুন ইতিহাস গড়েছে সৌদি আরব। একদিনে ৯ লাখ ৪ হাজার হাজি ওমরাহ পালন করেছেন—যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। হারামাইন কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
এর আগে গত বছর ৭ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, রমজানের পবিত্রতা ও বিশেষ মর্যাদার কারণেই এবারের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন।
রমজান মাসে স্বাভাবিকভাবেই মসজিদুল হারামে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়। এবারের রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
কাবা শরিফের চারপাশের খোলা সাদা মার্বেল চত্বর, যা ‘মাতাফ’ এলাকা নামে পরিচিত, সারাদিন শুধু ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে তাওয়াফে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
বিশেষ করে শুক্রবার, মাগরিব, এশা ও তারাবির সময় এবং রমজানের শেষ দশদিনে তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। তাই মুসল্লিদের নির্ধারিত আঙিনা ও নির্দিষ্ট স্থানে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করিডোর বা চলাচলের পথগুলো ফাঁকা রাখতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়।
গ্র্যান্ড মসজিদ বা মসজিদুল হারাম ঘিরে যানজট নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় এলাকায় পথচারীদের জন্য আলাদা পথ চালু করা হয়েছে। নামাজের সময় নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া মোটরসাইকেল ও সাইকেল প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে গাড়ি রাখলে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, সেসব যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসে ওমরাহ পালনের সওয়াব ও গুরুত্ব বেশি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা মক্কায় ছুটে আসেন। এবারের রেকর্ড উপস্থিতি সেই আধ্যাত্মিক আকর্ষণেরই প্রতিফলন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এই বিশাল জনসমাগমকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রমজানের বাকি দিনগুলোতেও এমন ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ এবং মুসল্লি—উভয়ের সচেতন অংশগ্রহণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

