বিশেষ বিশ্লেষণ
ঢাকার একটা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বের হলো। কয়েক ঘণ্টা পর সেই টাকা সিঙ্গাপুরে। কিছুদিনের মধ্যে সেটা রূপ নিলো একটা কোম্পানির শেয়ারে, অথবা হংকংয়ের কোনো ব্যাংক হিসাবে জমে থাকা নিষ্ক্রিয় ব্যালেন্সে। যে মুহূর্তে এই রূপান্তর ঘটে যায়, সেই মুহূর্তেই তদন্তকারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজটা শুরু হয়; টাকার আসল উৎস আর গন্তব্যের মধ্যে সংযোগটা প্রমাণ করা।
এই লেখায় আমি একটা নির্দিষ্ট নাম নিয়ে কথা বলব, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বড় অর্থ পাচারের মামলায় এই ব্যাংকের নাম বারবার এসেছে, আবার সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও ব্যাংকটি একাধিকবার শাস্তি পেয়েছে। কিন্তু এই দুটো তথ্যকে পাশাপাশি রাখলেই একটা উপসংহারে লাফ দেওয়া যায় না, “ব্যাংকটি পরিকল্পিতভাবে পাচারে সাহায্য করেছে”; সেটা প্রমাণের বিষয়, অনুমানের নয়। আমি এখানে যা লিখছি, তার প্রতিটা তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করেছি আদালতের নথি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব বিবৃতি আর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে।
ব্যাংকটার বাংলাদেশে শিকড় কতটা পুরোনো?
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এই ব্যাংকের প্রথম শাখা খোলে ১৯৪৮ সালে। কিন্তু ব্যাংকটির বাংলাদেশে উত্তরাধিকার আরও পুরোনো; ২০০০ সালে গ্লোবাল পর্যায়ে গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এমন একটা উপস্থিতির মালিক হয়, যার শিকড় যায় ১৯০৫ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশ অংশে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় ২০০২ সালের মধ্যে, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমেই তা হয়েছিল বলে তৎকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এরপর ২০০৫-০৬ সালে ব্যাংকটি আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকের বাংলাদেশের কর্পোরেট ব্যাংকিং ব্যবসাও কিনে নেয়। অর্থাৎ, আজকের যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে “একমাত্র বহুজাতিক ইউনিভার্সাল ব্যাংক” হিসেবে পরিচিত, সেটা তিনটা প্রতিষ্ঠানের মিশ্রণ; গ্রিন্ডলেজ, আমেরিকান এক্সপ্রেসের একাংশ, আর মূল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।
এই পটভূমিটা জানা জরুরি, কারণ যখন কেউ বলে “স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়া গেছে,” তখন প্রশ্ন ওঠে কোন শাখায়, কোন সময়ে, কোন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে? কারণ সিঙ্গাপুর শাখা, হংকং শাখা, আর ঢাকার শাখা প্রতিটাই আলাদা দেশের নিয়ন্ত্রক আইনের অধীনে চলে।
আইনি কাঠামোটা আগে বুঝে নেওয়া যাক
বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের মূল আইন হলো মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২। এই আইনের ২৪ নম্বর ধারায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে (২০১৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি দায়িত্ব থেকে বিএফআইইউ-কে পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়া হয়)। আর ২৫ নম্বর ধারায় বলা আছে “রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা” অর্থাৎ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়-দায়িত্বের কথা; গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করে রিপোর্ট করা, আর লেনদেন পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা।
সহজ কথায়, আইন অনুযায়ী দায়িত্বটা দুই স্তরে ভাগ করা; কেউ যদি অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেটা বিদেশে সরিয়ে ফেলে, সেটা মূল অপরাধ; আর সেই টাকা যে ব্যাংকের মাধ্যমে গেল, সেই ব্যাংক যদি যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স না করে থাকে, সেটা আলাদা এক ধরনের ব্যর্থতা; যেটাকে “উইলফুল কমপ্লিসিটি” (ইচ্ছাকৃত সহযোগিতা) আর “নিয়ন্ত্রণ-ব্যর্থতা” এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য। বিদেশি আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এই পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে করে থাকে, যা আমরা পরের অংশে দেখব।
সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম ও সিঙ্গাপুরের যৌথ হিসাব
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত এক রায়ের নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী মাফরুজা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা ২০০৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যাটারি রোড শাখায় একটি যৌথ হিসাব খোলেন। এই হিসাবের মাধ্যমে সিমেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের একজন পরামর্শক জুলফিকার আলী ও তাঁর স্ত্রী রহিমা আলীর যৌথ হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয়, যা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) আয়োজিত একটি টেন্ডার সিমেন্সকে বেআইনিভাবে পাইয়ে দেওয়ার জন্য লবিং-এর বিনিময় বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। এই মামলায় ২০০২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং ২০০৯ সালের সংশোধিত আইনের অধীনে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যা এখনো ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয়টা হলো, এই মামলার কেন্দ্রে আছে ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও তা বিদেশে সরানোর অভিযোগ। ব্যাংকটি এখানে ছিল লেনদেনের মাধ্যম, একটা যৌথ হিসাব যেটা নিয়মমাফিক খোলা হয়েছিল। মামলাটি এখনো চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায়, তাই এই মুহূর্তে কারও দোষ প্রমাণিত বলে দাবি করা ভুল হবে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান পরিবার ও হংকং সংযোগ
এটা সম্ভবত বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের নাম জড়ানো সবচেয়ে বেশি আলোচিত মামলা। উইকিপিডিয়ার বাংলা সংস্করণে উল্লিখিত মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযোগ ছিল – সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে ১১টি ভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মোট ৩২১ কোটি ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৯ টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হয়। এই মামলায় মোরশেদ খান ও তাঁর ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের নামে হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হিসাব জব্দ রাখার নিম্ন আদালতের আদেশ ২০১৯ সালের নভেম্বরে উচ্চ আদালতে বহাল থাকে।
দুদকের করা এজাহারের বরাত দিয়ে বণিক বার্তার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ফয়সাল মোরশেদ খানের সিঙ্গাপুরে টেলিকম, রিয়েল এস্টেট ও ঠিকাদারি ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে, শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে বেনামি বিনিয়োগ আছে, এবং হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে প্রায় ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার আটকে আছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রমনা থানায় মোরশেদ দম্পতি ও তাঁদের ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এম মোরশেদ খানের নিজ নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব ছিল, যা নিয়ে দুদক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায় বর্তাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর। ব্যাংকের হিসাব জব্দ হওয়াটা প্রমাণ করে যে আদালত অর্থের উৎস নিয়ে সন্দিহান, কিন্তু এটা প্রমাণ করে না যে ব্যাংক নিজে থেকে অর্থ পাচারে যুক্ত ছিল।
এবার আসি ব্যাংকটির নিজস্ব নিয়ন্ত্রক-ইতিহাসে
বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে যদি আমরা দেখি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক-রেকর্ড কেমন, তাহলে একটা প্যাটার্ন চোখে পড়ে এবং এই প্যাটার্নটা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা একটু পরে বলছি।
- ২০১২ সাল: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইরানের ওপর অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্রায় ৬৬৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে নিষ্পত্তি করে এবং একটি “ডেফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট” (ডিপিএ)-তে সই করে।
- ২০১৬ সাল: মালয়েশিয়ার ওয়ান-এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সিঙ্গাপুর শাখাকে ৫.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা করে। এমএএস জানায়, এই নিয়ন্ত্রণ-ঘাটতিগুলো তৈরি হয়েছিল নীতি ও প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা, ফ্রন্ট অফিস কর্মীদের ওপর পর্যাপ্ত স্বাধীন তদারকির অভাব এবং কিছু ব্যাংক কর্মীর মধ্যে মানি লন্ডারিং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি থেকে। তবে এমএএস স্পষ্ট করে বলেছিল, তাদের পরিদর্শনে ব্যাংকটির মধ্যে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ-দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অসদাচরণের প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই পার্থক্য করেছে “সিস্টেমের গাফিলতি” আর “ইচ্ছাকৃত অপরাধ”-এর মধ্যে।
- ২০১৮ সাল: এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনা, গার্নসি থেকে সিঙ্গাপুরে ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের সময় গ্রাহকদের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাই না করার জন্য এমএএস আবারও ৫.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠানকে আরও ১.২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে।
- ২০১৯ সাল: এটাই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিষ্পত্তি; যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এবং যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি; এই চারটি সংস্থা মিলিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডকে মোট ১.১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যাংকটি স্বীকার করে নেয় যে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তারা ইরানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রায় ৯,৫০০টি লেনদেন, যার মূল্যমান প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার; যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে, যা মার্কিন অবরোধ আইনের লঙ্ঘন।
- ২০২৫ সাল: ওয়ান-এমডিবি সংক্রান্ত মামলায় লিকুইডেটররা সিঙ্গাপুরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিরুদ্ধে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি সিভিল মামলা দায়ের করেছে, অভিযোগ করে যে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ব্যাংকটি ১০০-র বেশি আন্তঃব্যাংক স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছিল যা চুরি যাওয়া অর্থের প্রবাহ আড়াল করতে সাহায্য করেছিল। ব্যাংকটি এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো মামলার নথিই হাতে পায়নি বলে জানিয়েছে।
এই তালিকাটা দেখানোর উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বৈশ্বিকভাবেই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির মধ্যে আছে। এই জরিমানাগুলোর প্রায় সবই “নিয়ন্ত্রণ-ব্যর্থতা” হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, “ইচ্ছাকৃত অপরাধ” হিসেবে নয়। ২০১৯ সালের ইরান-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলাটি ব্যতিক্রম, যেখানে ব্যাংক নিজেই দোষ স্বীকার করেছিল।
তাহলে আসল প্রশ্নটা কী?
উপরের তথ্যগুলো একসঙ্গে রাখলে এটা প্রমাণ হয় না যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারে পরিকল্পিতভাবে সহযোগিতা করেছে। যা প্রমাণ হয়, তা হলো, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের একাধিক অভিযুক্ত মামলায় এই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার হিসাব ব্যবহৃত হয়েছে, এবং একই সময়ে এই ব্যাংকের বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স সিস্টেম একাধিকবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
তাহলে বাস্তব প্রশ্নগুলো হওয়া উচিত:
- যাঁদের নামে বিদেশে বিপুল অর্থ পাওয়া গেছে, তাঁদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সেই অর্থের কোনো সামঞ্জস্য ছিল কি?
- এই লেনদেনগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি?
- সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে “নো ইওর কাস্টমার” (KYC) প্রক্রিয়া ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়েছিল?
- রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক তদারকি করা হয়েছিল কি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই আসলে তদন্তের কাজ। আর সেই কাজটা এখনো বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আদালতে চলমান।

