পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আসার গতি এখনো খুব ধীর। সম্প্রতি নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও শিগগিরই আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা আইপিও সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে।
দেশের শেয়ারবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন বিধিমালা চালু হলেও পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে না। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোনো কোম্পানি আইপিও অনুমোদন পেলেও তালিকাভুক্ত হতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আইপিওর জন্য আবেদন করতে হলে কোম্পানির প্রসপেক্টাসে সংযুক্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলোকে নিয়মিতভাবে হালনাগাদ আর্থিক তথ্য দিতে হবে।এছাড়া শুধু অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিওর আবেদন করা যাবে না। পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব ছাড়া আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়—এমন শর্তও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হলেও অনেক কোম্পানির জন্য প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন কোম্পানিগুলো আইপিওতে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে বা সময় নিচ্ছে।
অন্যদিকে, কর সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালাও কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে, নতুন নিয়ম চালুর পরও পুঁজিবাজারে আইপিও প্রবাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

