সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচক বাড়লেও দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি কমেছে। দিনের শুরুতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত দরপতনের চাপ বেড়েছে, ফলে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-তে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচক এক পর্যায়ে ৭০ পয়েন্টের বেশি উঁচুতে উঠে যায়। প্রথম দুই ঘণ্টা বাজারে এ ধারা বজায় ছিল।
তবে দুপুরের পর বাজারের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে অনেক কোম্পানি লাভের তালিকা থেকে বের হয়ে দরপতনের তালিকায় চলে যায়। শেষ দিকে বিক্রির চাপ বাড়ায় দিন শেষে পতনশীল শেয়ারের সংখ্যাই বেশি থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৭২টির এবং ৬৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানির মধ্যে ভালো মৌলভিত্তির প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশের দাম বাড়লেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। একইভাবে মাঝারি ও দুর্বল শ্রেণির কোম্পানিতেও পতনের প্রবণতা বেশি ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে সূচকে ইতিবাচক প্রভাব থাকায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১২২ পয়েন্টে। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৫৪ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক কিছুটা কমেছে।
সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ডিএসইতে এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪১ কোটির বেশি কম। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এরপর ছিল একমি পেস্টিসাইড ও সামিট এলায়েন্স পোর্ট। এছাড়া শীর্ষ তালিকায় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সূচক কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ কোটি টাকায়। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সূচকের ঊর্ধ্বগতি থাকলেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান ও বিক্রির চাপের কারণে লেনদেন কমে গেছে। এতে বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসতে সময় লাগতে পারে।

