মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমে আসার খবরে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লেনদেনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, যার ফলে দিনজুড়ে সূচক ও লেনদনে বড় উত্থান দেখা যায়।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫,৩১৭ পয়েন্টে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫,১৫৭ পয়েন্ট। একই সঙ্গে ডিএস-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২,০২৬ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১,০৭৬ পয়েন্টে। বাজারের এ উত্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
লেনদেনের দিক থেকেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিএসইতে একদিনে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯৯১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডের মধ্যে বেশিরভাগেরই দর বেড়েছে—৩৬৭টির দাম বাড়ে, কমে মাত্র ১৫টির, আর অপরিবর্তিত থাকে ১১টি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারের মতো দেশীয় পুঁজিবাজারেও চাপ ছিল। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কিছুটা ফিরে এসেছে। এতে বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হয় এবং সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত সর্বোচ্চ ১৫.৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এরপর প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত উভয়ই ১২.৭ শতাংশ করে লেনদন দখল করে। বস্ত্র খাতের অংশ ছিল ৮.৯ শতাংশ এবং বিবিধ খাতের দখলে ছিল ৮.৬ শতাংশ।
এদিন প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে পাট খাতে সর্বোচ্চ ৪.৬ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ৪.১ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিউচুয়াল ফান্ডে ৩.৪ শতাংশ এবং কাগজ-মুদ্রণ ও টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ৩ শতাংশ করে রিটার্ন হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। সিএসসিএক্স সূচক ১৯২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯,০৫৯ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪,৮১৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এখানে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ছয়টি। বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

