কয়েক সপ্তাহের টানা দুর্বলতার পর দেশের পুঁজিবাজারে আবারও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিদায়ী সপ্তাহে বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে, যা বাজারে আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৫,২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ৫,২২০ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২,০০২-এ পৌঁছায়। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও সামান্য বেড়ে ১,০৬৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকেও কিছুটা গতি দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬৯ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য বেশি। মোট ৩৮৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির।
সূচকের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ার। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। এতে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয় এবং সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা ফিরে আসে। যদিও শেষ দিনে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় সূচক সামান্য কমে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওষুধ ও রসায়ন খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন আকর্ষণ করেছে, মোট লেনদেনের ১৫.৮ শতাংশ এই খাতের দখলে। এরপর প্রকৌশল খাত ১৪.২ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় এবং ব্যাংক খাত ৯.৩ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। বস্ত্র ও সাধারণ বীমা খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেন করেছে।
রিটার্নের দিক থেকে চামড়া খাত শীর্ষে ছিল, যেখানে গড়ে ২.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। ব্যাংক খাতসহ কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১.৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তিতে ১.৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ১.৩ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া গেছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড, জীবন বীমা ও ভ্রমণ খাতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪,৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সিএসসিএক্স সূচক ০.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯,০৩৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়।
সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১৮৮ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এখানে তালিকাভুক্ত ২৯৭টি কোম্পানির মধ্যে ১২৩টির দর বেড়েছে, ১৪৪টির কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সব মিলিয়ে, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে আংশিক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো সতর্কতা রয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর।

