দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কারসাজি তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত দেড় দশকে পুঁজিবাজারে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। তিনি আরও জানান, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিএসইসিকে কার্যকর স্বাধীনতা দেওয়া হবে। এতে বাজার কারসাজি প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মূলধন গঠনে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা জরুরি। এ জন্য কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
পুঁজিবাজারকে বহুমুখী করতে কর্পোরেট বন্ড, সুকুক ও গ্রিন বন্ড চালুর কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন সহজ হবে।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ভোগব্যয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা হবে।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংস্কার কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

