দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগের প্রবণতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এক খাত থেকে টাকা সরিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে বাজারে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ ও ঝুঁকি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক ও ভ্রমণ খাত থেকে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য হারে অর্থ তুলে নিয়েছেন। এতে এসব খাতের লেনদেন কমে গেছে। বিপরীতে প্রকৌশল, সাধারণ বিমা, ট্যানারি ও বিবিধ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, ফলে এসব খাতের লেনদেনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে ১৬ কোটি টাকায় নেমেছে। সিরামিক ও ভ্রমণ খাতেও লেনদেন কমেছে। অন্যদিকে প্রকৌশল খাতে লেনদেন বেড়ে ৯৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং সাধারণ বিমা খাতে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকায়। ট্যানারি ও বিবিধ খাতেও লেনদেন বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীরা মূলত স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় দ্রুত খাত পরিবর্তন করছেন। তবে এই বিনিয়োগের বড় অংশ সীমিতসংখ্যক কিছু কোম্পানিতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট মূলধনি শেয়ারের প্রতি ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভালো মৌলভিত্তির বড় কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দামে রয়েছে। এসব কোম্পানির মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বাজারের গড়ের নিচে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রাইম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য মুনাফা দেখা গেছে। এর ফলে এসব ব্যাংকের শেয়ার ভবিষ্যতে ভালো লভ্যাংশ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ-এর এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ মনে করছেন, চলতি বছরে শেয়ারবাজারে লেনদেনে নেতৃত্ব দেবে ব্যাংক খাত।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫,২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে, যা বাজারে আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সার্বিকভাবে, বাজারে এখন স্বল্পমেয়াদি লাভের সুযোগ থাকলেও ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের খাতভিত্তিক প্রবণতা বুঝে এবং মৌলভিত্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

