কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক দুর্বলতার পর ব্যাংক খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসায় গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজার বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই খাতের উত্থানই মূলত বাজারের সূচককে উপরে তুলতে সহায়তা করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫,২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ্ভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও সামান্য বেড়েছে। যদিও বাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, তবুও নির্বাচিত কিছু বড় কোম্পানির দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক-এর মতো ব্যাংক খাতের শেয়ার সূচক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা ও খাদ্য খাতের শেয়ারও অবদান রাখে।
সপ্তাহজুড়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে বাজারে লেনদেনের বিস্তৃতি সীমিত ছিল—৩৮৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, বিপরীতে কমেছে ২২০টির।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। এতে বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির খবর আসায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া পড়ে এবং সূচকে উত্থান দেখা যায়। শেষ কার্যদিবসে আবার কিছুটা সংশোধন এলেও ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ প্রত্যাশা বাজারকে সমর্থন দেয়।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত শীর্ষে ছিল, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১৫.৮ শতাংশ দখল করে। এরপর প্রকৌশল, ব্যাংক, বস্ত্র ও সাধারণ বিমা খাত উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল।
রিটার্নের দিক থেকে চামড়া খাত সর্বোচ্চ ২.৪ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এছাড়া ব্যাংক, কাগজ ও মুদ্রণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সিমেন্ট খাতেও ভালো রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড, জীবন বিমা ও ভ্রমণ খাতে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইডস ও লাভেলো আইসক্রিমসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানি, যা বাজারে কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই ধারা দেখা গেছে। সেখানে সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। সিএএসপিআই সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ এবং সিএসসিএক্স সূচক ০.৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সার্বিকভাবে, ব্যাংক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীলতা দিলেও বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। তাই বাজারে টেকসই উন্নতির জন্য বিস্তৃত খাতভিত্তিক অংশগ্রহণ এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ জরুরি।

