সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে উত্থানের প্রবণতা দেখা গেছে। অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও বেড়ে আবার ৮০০ কোটির ঘরে ফিরেছে, যা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ দিনের শুরুতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা যায়। তবে মধ্যাহ্নের দিকে কিছুটা বিক্রির চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ শেয়ারের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়ে ২ হাজার ৭ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এই চিত্রে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে বাজারে ইতিবাচক ধারা থাকলেও সব খাতে সমান গতি ছিল না।
এদিন ডিএসইতে মোট ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক কয়েক দিনের ওঠানামার পর লেনদেনের পরিমাণ বাড়া বাজারে স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৭৮টির কমেছে এবং ২৫টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিন সিএসইতে ৫৪ কোটি ১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। লেনদেন বাড়া এবং সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে সূচকের মিশ্র অবস্থান দেখাচ্ছে যে বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। সার্বিকভাবে, লেনদেন ও দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে পুঁজিবাজারে আরও গতি ফিরে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

