দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিমা খাতের শেয়ারে ব্যাপক দরবৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন—দুটিই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে প্রায় সব বিমা কোম্পানির শেয়ারে উত্থান বাজারে নতুন গতি এনেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয় কিছুটা দুর্বল প্রবণতা দিয়ে। শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমে সূচকও নেতিবাচক অবস্থায় চলে যায়। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়, বিশেষ করে বিমা খাতের শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে দ্রুত উল্টো ধারা তৈরি হয়। দিনের বাকি সময়জুড়ে বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধারাবাহিক দরবৃদ্ধি দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ করে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একদিনে ৫৬টি বিমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র দুটির শেয়ার দর কমেছে, বাকি প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। এই খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন লভ্যাংশ মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ডিসেম্বরভিত্তিক হিসাব বছরের কোম্পানিগুলোর ঘোষণার প্রত্যাশা থেকেই বিমা খাতে কেনার চাপ তৈরি হয়েছে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে—দাম বাড়ার তালিকায় ছিল ১৮৮টি শেয়ার, দাম কমেছে ১৪৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৬৬টি। বিমা খাত ছাড়াও অন্যান্য খাতে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও মোটের ওপর বাজারে উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। দিন শেষে প্রধান সূচক সামান্য বেড়ে অবস্থান করে ৫ হাজার ২৭১ পয়েন্টে। ভালো ৩০টি কোম্পানির সূচকেও খুব সামান্য বৃদ্ধি দেখা যায়। তবে শরিয়াহ সূচক কিছুটা কমে যায়।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। পুরো দিনে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৩৭ কোটি টাকার বেশি, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে কয়েকটি বড় কোম্পানি, যার মধ্যে শীর্ষে ছিল একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এরপর ব্যাংক খাত ও কীটনাশক কোম্পানি। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল টেক্সটাইল, স্টিল, অনলাইন সেবা ও ভোক্তা পণ্যের কোম্পানিগুলো।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক সামান্য হলেও ইতিবাচক অবস্থায় থাকে। তবে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি মূলত খাতভিত্তিক একটি অস্থায়ী উত্থানও হতে পারে। বিশেষ করে বিমা খাতের লভ্যাংশ প্রত্যাশা বাজারে দ্রুত ক্রয়চাপ তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই গতি ধরে রাখতে হলে কোম্পানিগুলোর আয়ের ধারাবাহিকতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সব মিলিয়ে বিমা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে দেশের শেয়ারবাজারে একদিনের জন্য হলেও নতুন গতি ফিরেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে লভ্যাংশ ঘোষণা ও আগামী দিনের বাজার প্রবণতার দিকে।

