সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমলেও প্রধান সূচক সামান্য বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে, যা বাজারে কিছুটা স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে যায়। দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে দরপতনের তালিকায় শেয়ারের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং দিনশেষে তা স্পষ্টভাবে প্রাধান্য পায়।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৩১টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২০১টির দাম কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির চাপই বেশি ছিল।
এত শেয়ারের দাম কমার পরও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে। একইভাবে ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক প্রায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের দিক থেকেও কিছুটা মন্দা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সীমিত ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সার্বিক সূচক কিছুটা বেড়েছে। এ বাজারে ২০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে, ৮৮টির কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের সামান্য উত্থান সত্ত্বেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন বাজারে আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে।

