সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিনজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকে। শুরু থেকে লেনদেনের গতি বাড়তে থাকায় প্রধান সূচকসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই উন্নতি লক্ষ্য করা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষ হওয়ার কিছু পরেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক প্রায় উনত্রিশ পয়েন্টের কাছাকাছি বেড়ে পাঁচ হাজার দুইশর বেশি অবস্থানে পৌঁছে যায়। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচকও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখায় এবং এক হাজার পয়েন্টের ওপরে অবস্থান শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ডিএস–৩০ সূচকেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, যা বাজারের বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের গতি এই সময়ের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ছিল। কয়েকশ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়, যা বাজারে অংশগ্রহণের মাত্রা স্থিতিশীল থাকার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে অধিক সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়, বিপরীতে কিছু প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও সার্বিকভাবে বৃদ্ধিপ্রবণ বাজার পরিস্থিতিই প্রাধান্য পায়। কিছু শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও তা সামগ্রিক প্রবণতাকে খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সূচক বৃদ্ধি সাধারণত বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান লেনদেন পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কিনা তা নির্ভর করবে বাজারের মৌলিক পরিস্থিতি, কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবণতার ওপর। সব মিলিয়ে দিনের শুরুতে পাওয়া এই ইতিবাচক গতি শেয়ারবাজারে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ জাগিয়েছে।

