শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য লভ্যাংশ সময়মতো না দেওয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়টি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদিত লভ্যাংশ বিধি অনুযায়ী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পাঁচ থেকে আট মাস পরও গত বছরের জন্য অনুমোদিত লভ্যাংশ বিতরণ করেনি এই কোম্পানিগুলো।
যে নয় কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে পাঁচটি মূল বাজারে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো আফতাব অটোমোবাইলস, নাভানা সিএনজি, ফরচুন সুজ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং এবং এডভেন্ট ফার্মা। বাকি চারটি স্বল্প মূলধনি কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম এসএমই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হলো মাস্টার ফিড, কৃষিবিদ ফিড, কৃষিবিদ সিড এবং বিডি পেইন্টস।
কৃষিবিদ ফিড ছাড়া বাকি আট কোম্পানির এজিএম হয়েছিল গত বছরের ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। অর্থাৎ বিধান অনুযায়ী লভ্যাংশ দেওয়ার সময়সীমা বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডভেন্ট ফার্মা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণ করেছে। মাস্টার ফিড দিয়েছে ২৬ শতাংশ, নাভানা সিএনজি ১৮ শতাংশ এবং আফতাব অটোমোবাইলস ১৪ শতাংশ। বাকি কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশই বিতরণ করেনি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, সময়মতো লভ্যাংশ পাওয়া শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার। যেসব কোম্পানি এই অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনার একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, কয়েকটি কোম্পানি আংশিক লভ্যাংশ দিলেও পুরোটা দেয়নি, আর কয়েকটি এক টাকাও দেয়নি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, লভ্যাংশ অনুমোদনের পরও তা হাতে না পেলে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা ও আর্থিক পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বিলম্ব বেশি কষ্টদায়ক।
তবে দেরির প্রকৃত কারণ কী, কোম্পানিগুলো কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কি না এবং কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এখন নজর থাকবে বিএসইসির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কোম্পানিগুলো দ্রুত লভ্যাংশ পরিশোধ করে কি না, সেদিকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে বাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশা করা যায়।

