সকালে ২০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে ডিএসইএক্স, দর বেড়েছে ২৩৯টি সিকিউরিটিজের; তবে বাজারে স্থায়ী ক্রয়চাপ ফিরেছে কি না, তা নির্ভর করছে লেনদেন ও দিনশেষের সূচকের ওপর।
টানা তিন কার্যদিবসের দরপতনের পর বুধবার সকালে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সকাল ১০টা ৪২ মিনিটের বাজারচিত্রে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪০৬ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯০ দশমিক ১৭ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে ওঠে। বাজারের প্রাথমিক চিত্রে দরবৃদ্ধির বিস্তারও ইতিবাচক; ২৩৯টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৭৭টির।
তবে এই উত্থানকে বাজারের গতিপথ বদলে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৪৩২ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। পরের দুই কার্যদিবসে সূচকটি নেমে ২৬ অক্টোবর ৫ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৪ এবং ২৭ অক্টোবর ৫ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অর্থাৎ তিন কার্যদিবসে সূচক হারিয়েছিল ৪৬ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট। বুধবার সকালের উত্থানে সেই পতনের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবু সূচকটি ২৫ অক্টোবরের অবস্থানের চেয়ে এখনো ২৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট নিচে। ফলে আপাতত এটিকে সাম্প্রতিক দরপতনের পর একটি প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা যায়; পূর্ণাঙ্গ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার নিশ্চয়তা হিসেবে নয়।
সকালের লেনদেনেও বাজারে অংশগ্রহণের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সকাল ১০টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ সময়ে ৩ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেন হয়েছে ২৮ হাজার ৬৭৬টি। তুলনায়, মঙ্গলবার পুরো কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪০৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। দিনের শুরুর এই পরিসংখ্যান বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিলেও, দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ কোথায় দাঁড়ায় এবং সূচকের উত্থান কতটা ধরে রাখা যায়; সেটিই হবে বাজারের শক্তি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
খাতভিত্তিক চিত্রে একদিকে যেমন কিছু খাতে দরবৃদ্ধি রয়েছে, অন্যদিকে দুর্বলতাও স্পষ্ট। সকালের ডিএসই হিটম্যাপে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে। প্রকৌশল খাত বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে পাট খাতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তিতে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পতন রয়েছে। অর্থাৎ বাজার সব খাতে সমানভাবে ঘুরে দাঁড়ায়নি। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডের শক্তিশালী উত্থানকে পুরো বাজারের মৌলিক অবস্থার উন্নতি হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে অন্য খাতগুলোর অংশগ্রহণও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশ ঘোষণাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের কথা বিভিন্ন বাজার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২৭ অক্টোবরের একটি বাজার-বিশ্লেষণে ডিএসইএক্সের ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টের কাছাকাছি স্তরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়; আগের দিন সূচকটি লেনদেন চলাকালে সেই স্তরের সামান্য নিচে নামলেও দিনশেষে ওপরে ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের উত্থান স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিলেও বাজারের আস্থার সংকট কেটে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
দিনশেষের ফলাফলই নির্ধারণ করবে সকালের এই ইতিবাচক প্রবণতা কতটা অর্থবহ। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ, দরবৃদ্ধি ও দরপতনের অনুপাত এবং বড় কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বজায় থাকে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে। যদি সূচকের উত্থানের সঙ্গে লেনদেনও বাড়ে এবং অধিকাংশ খাতে ইতিবাচক প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলতে পারে। কিন্তু সূচক বাড়লেও লেনদেন দুর্বল হয়ে পড়লে বা শেষ ভাগে বিক্রির চাপ ফিরে এলে, সকালের উত্থান সাময়িক স্বস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

