বেসরকারি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মুনাফা বাড়লেও ঋণের সুদ থেকে আয়ের চিত্র ততটা ইতিবাচক নয়। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২০৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ১৭৬ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বিনিয়োগ থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই মুনাফা প্রবৃদ্ধি এসেছে। অন্যদিকে, অর্থায়ন ব্যয় বাড়ায় ঋণের সুদ থেকে নিট আয় কমেছে।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ গত মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এই সময়ে বিনিয়োগ থেকে আয় ২৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এক বছরে এই খাত থেকে আয় বেড়েছে ৯৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৬ শতাংশ। কমিশন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ব্রোকারেজ থেকেও আয় বেড়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা, অর্থাৎ ঋণ দিয়ে সুদ আয়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম। প্রথম নয় মাসে ঋণের সুদ থেকে আইডিএলসি আয় করেছে ১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। ফলে সুদ বাবদ আয় বেড়েছে ৪৭ কোটি টাকা। কিন্তু আমানত ও ধার করা অর্থের বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এতে ঋণের সুদ থেকে নিট আয় গত বছরের ২৮৭ কোটি টাকা থেকে কমে ২৬৩ কোটি টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ, ঋণ থেকে বেশি সুদ পেলেও অর্থ সংগ্রহের খরচ আরও দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মূল সুদভিত্তিক আয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবেও এই প্রবণতা দেখা যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আইডিএলসির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ৬৮ কোটি টাকার চেয়ে সামান্য বেশি। কিন্তু এই প্রান্তিকে নিট সুদ আয় ১০৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৯৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে, বিনিয়োগ থেকে আয় ২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ কোটি টাকা হয়েছে। ফলে নয় মাসের সামগ্রিক মুনাফা বাড়লেও সর্বশেষ তিন মাসে সুদভিত্তিক আয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট রয়েছে।
শেয়ারবাজারেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ফলাফলের প্রভাব পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ৪ টাকা ৫১ পয়সা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৮৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫০ টাকা ৬৭ পয়সা। তবে মুনাফা বাড়লেই প্রতিষ্ঠানের সব আয়ের উৎস সমান শক্তিশালী হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। বিনিয়োগ থেকে বাড়তি আয় সামগ্রিক ফলাফলকে সহায়তা করলেও নিট সুদ আয়ের পতন ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকছে।
সব মিলিয়ে, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের প্রথম নয় মাসের ফলাফল মুনাফা বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র দেখায়। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়ার কারণে, ঋণের সুদ থেকে নিট আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়। আগামী সময়ে অর্থ সংগ্রহের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার ধারাবাহিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

