সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টায় দেশের দুই পুঁজিবাজারে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান ও শরিয়াহভিত্তিক সূচক বাড়লেও নীল-চিপ শেয়ারের সূচক ছিল নিম্নমুখী। বিপরীতে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচকসহ সবগুলো সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএস৩০ সূচক ৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯২ দশমিক ৯১ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে, শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ সময় পর্যন্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯০ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। মোট ২ কোটি ৮৮ লাখ নয়, বরং প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে এবং সম্পন্ন হয়েছে ২৭ হাজার ৫২১টি লেনদেন।
ডিএসইতে দরবিস্তারের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫৯টি শেয়ারের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৩৫টির। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে, ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ১ শতাংশ। অন্যদিকে, সিরামিকস খাতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ দরপতন হয়েছে।
শেয়ারভিত্তিক দরবৃদ্ধির তালিকায় ডিএসইতে এগিয়ে ছিল প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। বিডি থাই ফুডের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ক্রাউন সিমেন্টের ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, দরপতনের তালিকায় ছিল এনভয় টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ, এবং বিপিপিএলের দর কমেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। সক্রিয় শেয়ারের তালিকায় লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল এমএল ডাইং, ফার কেমিক্যাল এবং বিপিপিএল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অবশ্য সূচকগুলোর মধ্যে একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, সিএসই৫০ সূচক ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২ দশমিক ৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসই৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৫৬০ দশমিক ০১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে সিএসএক্স সূচক ১২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট, সিএএসপিআই সূচক ১৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক শূন্য দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে পাঁচটি সূচকেরই উত্থান ছিল শূন্য দশমিক ১২ থেকে শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশের মধ্যে।
সিএসইতে ওই সময় পর্যন্ত ২৪টি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দর। মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৬৯টি শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৪১৫ টাকার লেনদেন হয়েছে। বাজারটির শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল মিডল্যান্ড ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস ও অ্যাডভেন্ট ফার্মা। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবার সকালে ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা থাকলেও সিএসইতে সব সূচকই ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। দুই বাজারেই কিছু শেয়ারে দরবৃদ্ধি দেখা গেলেও ডিএসইতে একাধিক খাতে পতন রয়েছে। তবে এসব তথ্য চলমান লেনদেনের নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র, দিনশেষের ফলাফল নয়। দিনের বাকি সময়ে সূচক, লেনদেনের পরিমাণ এবং দরবৃদ্ধি ও দরপতনের অনুপাত কীভাবে বদলায়, তার ওপরই দুই বাজারের চূড়ান্ত চিত্র নির্ভর করবে।

