কোনো শেয়ারের দাম হঠাৎ অর্ধেক হয়ে গেলে অনেকেই ভাবেন, শেয়ারটি বুঝি সস্তা হয়ে গেছে। কিন্তু শেয়ার স্প্লিটের ক্ষেত্রে এই ধারণা ভুল। কারণ এতে কোম্পানির মোট মূল্য, ব্যবসা বা আয় কোনোটাই বদলায় না। শুধু শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে, আর প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে যায়। তবু আমাদের পুঁজিবাজারে একসময় এই বিষয়টি নিয়ে এমন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, যার বড় মাশুল দিতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। চলুন আজ সহজভাবে সেই হিসাবটাই বোঝার চেষ্টা করি।
পিৎজা আট টুকরো করলে কি পিৎজা ছোট হয়?
আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। কোনো কোম্পানির মোট শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে প্রতিটি শেয়ারের বাজারদর গুণ করলে যে মূল্য পাওয়া যায়, সেটিই কোম্পানির বাজারমূল্য বা মার্কেট ক্যাপ। ধরুন, একটি কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার আছে এবং প্রতিটির দাম ২০০ টাকা। তাহলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২০ কোটি টাকা। এখন কোম্পানি যদি প্রতিটি শেয়ারকে দুই ভাগ করে, তাহলে শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে হবে ২০ লাখ। একই সঙ্গে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে ১০০ টাকা হবে। কিন্তু কোম্পানির মোট বাজারমূল্য আগের মতোই ২০ কোটি টাকা থাকবে।
কোম্পানির মুনাফার হিসাবেও একই বিষয় ঘটে। ধরুন, কোম্পানিটির বার্ষিক মুনাফা ২ কোটি টাকা। স্প্লিটের আগে প্রতি শেয়ারে আয় বা ইপিএস ছিল ২০ টাকা। শেয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পর তা কমে হবে ১০ টাকা। শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিও একই অনুপাতে কমবে। অর্থাৎ শেয়ারের দাম ও আয় দুটোই অর্ধেক হওয়ায় দাম ও আয়ের অনুপাত বা পিই রেশিও আগের মতো ১০-ই থাকবে।
বিষয়টি পিৎজার সঙ্গে তুলনা করলে আরও সহজ হবে। একটি পিৎজা আট টুকরো করলে খাওয়ার সুবিধা বাড়তে পারে, কিন্তু পিৎজার আকার বা ওজন বাড়ে না। শেয়ার স্প্লিটও অনেকটা সে রকম। বিশ্বের সাম্প্রতিক আলোচিত উদাহরণ এনভিডিয়া। ২০২৪ সালের জুনে কোম্পানিটি একটি শেয়ারকে ১০ ভাগ করে। ফলে শেয়ারের দাম ১ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি থেকে নেমে আসে ১২০ ডলারের আশপাশে। কিন্তু কোম্পানির বাজারমূল্য তখনও প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারই ছিল। এনভিডিয়ার ব্যাখ্যা ছিল, এর মাধ্যমে কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের মালিকানা আরও সহজ করা।
বাংলাদেশেও শেয়ারের সংখ্যা বাড়লে দাম আনুপাতিক হারে সমন্বয় করার একই যুক্তি কাজ করে। বোনাস শেয়ারের কারণে কোনো কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা বাড়লে বাজারদর সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ কারণে ২০২১ সালে বিএসইসি নিয়ম পরিবর্তন করে ফ্লোর প্রাইসকেও রেকর্ড ডেটের পর সমন্বিত দামে নামিয়ে আনার সুযোগ দেয়। কারণ শেয়ার সংখ্যা বাড়ার পর দাম আনুপাতিক হারে কমা স্বাভাবিক। এতে কোম্পানি সস্তা হয়ে যায় না।
লভ্যাংশের শতাংশ দেখে খুশি হওয়ার আগে হিসাব করুন
এবার আসি অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুতে। এটি শেয়ারের একটি নির্ধারিত নামমাত্র মূল্য, যা কোম্পানির শেয়ার মূলধন এবং লভ্যাংশের হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। বাজারদরের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদার ওপর শেয়ারের দাম ওঠানামা করে, কিন্তু অভিহিত মূল্য সাধারণত স্থির থাকে।
কোম্পানি যখন লভ্যাংশের হার ঘোষণা করে, তখন সেই শতাংশ হিসাব করা হয় অভিহিত মূল্যের ওপর। যেমন, সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় যমুনা ব্যাংক ২৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর অর্থ, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারী পাবেন ২ টাকা ৯০ পয়সা। এবার ধরুন, একটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা, কিন্তু বাজারদর ২০০ টাকা। কোম্পানিটি যদি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তাহলে বিনিয়োগকারী পাবেন শেয়ারপ্রতি ২ টাকা। কিন্তু বাজারদরের তুলনায় এই আয় মাত্র ১ শতাংশ। তাই লভ্যাংশের হার বড় দেখালেই বেশি আয় হচ্ছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। আগে বুঝতে হবে, ঘোষিত শতাংশটি কোন মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে লেনদেনের আওতায় আনা হয়। তবে শুরুতে আইনি জটিলতার কারণে আইসিবি ও বিএসসির মতো কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পারেনি। বিএসসি পরে ২০১৭ সালে নতুন আইন পাসের পর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে আসে। সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলোতেও ১০ টাকা অভিহিত মূল্য দেখা যায়।
২০১০ সালে আমরা যে হিসাবটা ভুল করেছিলাম
২০১১ সালে সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য এক করার প্রয়োজন কেন দেখা দিয়েছিল, তা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১০ সালের পুঁজিবাজারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর বাজারে শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। একই সময়ে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২০০৬ সালের পাঁচ লাখের কম থেকে বেড়ে ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
বাজারে তখন ব্যাপক উন্মাদনা। এর মধ্যে একের পর এক কোম্পানি তাদের ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারকে ১০ টাকায় নামিয়ে আনে। একজন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে লিখেছেন, ২০০৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাজারমূলধন ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ার পেছনে প্রায় ৪৫টি কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনও ভূমিকা রেখেছিল।
তদন্ত কমিটির একটি উদাহরণ বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে। সিএমসি কামাল টেক্সটাইলের শেয়ারদর ২০১০ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় উঠেছিল। অর্থাৎ অভিহিত মূল্যের ১৬ গুণ। অথচ আগের বছর কোম্পানিটি লোকসান করেছিল। তদন্ত কমিটি শেয়ারটির দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করে। এর মধ্যে ছিল স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা, প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা, জেড থেকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়া এবং অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় নামিয়ে আনা। বাজারধসের আগে স্প্লিট হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ৬৫৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটি সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় এক করার সুপারিশ করে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ২০১০ সালের বাজারধসের জন্য শুধু শেয়ার স্প্লিটকে দায়ী করা যায় না। বেনামি ওমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনসহ আরও অনেক কারণ এতে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের খবর যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছিল এবং অনেকে সেটিকে শেয়ার সস্তা হওয়ার সংকেত হিসেবে নিয়েছিলেন, তা তদন্তের তথ্যেও উঠে এসেছে। বিএসইসি তখন জানিয়েছিল, প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের মতো দামসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে কেউ অন্যায্য সুবিধা নিতে না পারে।
সস্তা হলে কেনাবেচা কি সত্যিই সহজ হয়?
শেয়ার স্প্লিটের পক্ষে সবচেয়ে প্রচলিত যুক্তি হলো, এতে বাজারে তারল্য বা লিকুইডিটি বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সহজে শেয়ার কিনতে ও বিক্রি করতে পারেন। যুক্তিটি হলো, শেয়ারের দাম কমলে ছোট বিনিয়োগকারীরাও কম টাকায় শেয়ার কিনতে পারবেন। এতে লেনদেন বাড়বে এবং বাজার আরও সক্রিয় হবে।
কিন্তু গবেষণায় সব সময় এমন ফল পাওয়া যায়নি। ১৯৭৯ সালে টমাস কোপল্যান্ড ১৬২টি শেয়ার স্প্লিট বিশ্লেষণ করে দেখেন, স্প্লিটের পর লেনদেনের পরিমাণ শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধির সমানুপাতে বাড়েনি। বরং ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যকার শতকরা ব্যবধান বেড়েছে। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে স্প্লিটের পর তারল্য কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। পরবর্তী আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, স্প্লিটের পর লেনদেনের সংখ্যা বাড়লেও প্রতিটি লেনদেনে শেয়ারের পরিমাণ কমেছে এবং ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানও বেড়েছে। ২০২৪ সালের একটি ওয়ার্কিং পেপারে ডাউ জোনস সূচকের কোম্পানিগুলো নিয়ে নতুন করে গবেষণা করা হয়। সেখানেও মোটামুটি কোপল্যান্ডের আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোর ফল এক রকম নয়। তাই শেয়ার স্প্লিট করলেই তারল্য বাড়বে বা কমবে, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। আমার পর্যবেক্ষণ হলো, কম দাম ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশ সহজ করতে পারে। কিন্তু তাতে বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা তৈরি হবে কি না, কিংবা কেনাবেচা কতটা সহজ হবে, তা শুধু শেয়ারের দামের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য ভালো কোম্পানির শেয়ার থাকা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণও জরুরি।
বাংলাদেশের বাজারেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পুঁজিবাজারের একজন বিশ্লেষক দুই বছর আগে ডিএসইর দৈনিক লেনদেন নিয়ে লিখতে গিয়ে বলেছিলেন, বাজারে টাকার তারল্যের চেয়ে ভালো শেয়ারের জোগান বড় সমস্যা। তাঁর মতে, দীর্ঘ আইপিও প্রক্রিয়া এবং মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাবে বাজারে ভালো শেয়ারের সংখ্যা বাড়ছে না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, তবে তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে যুক্তিটি তুলে ধরেছেন।
আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সে সময় ডিএসই খুব কম দামের শেয়ারের জন্য ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের ধাপ বা টিক সাইজ ১০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ পয়সা করে। পিপলস লিজিংসহ কয়েকটি দুর্দশাগ্রস্ত কোম্পানির শেয়ারদর এক টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কারণ এক টাকা দামের কোনো শেয়ারে ১০ পয়সা পরিবর্তন মানে এক ধাপেই দামের ১০ শতাংশ ওঠানামা। এতে স্বাভাবিক লেনদেন কঠিন হয়ে পড়ে। এটি শেয়ার স্প্লিটের ঘটনা নয়, বরং শেয়ারদর অনেক কমে যাওয়ার উদাহরণ। তবে এটি দেখায়, শেয়ারের দাম এবং লেনদেনের সুবিধা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু দাম কম হলেই বিনিয়োগকারীর সব সুবিধা নিশ্চিত হয় না।
তাহলে স্প্লিটের ঘোষণা এলেই শেয়ারের দাম বাড়ে কেন?
এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আসা যাক। শেয়ার স্প্লিটে যদি কোম্পানির মোট মূল্য বা ব্যবসার কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে স্প্লিটের ঘোষণা এলে অনেক সময় শেয়ারের দাম বাড়ে কেন?
১৯৬৯ সালে ইউজিন ফামা ও তাঁর সহকর্মীরা শত শত শেয়ার স্প্লিটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। পরে ফামা অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, স্প্লিটের আগে ও পরে শেয়ারের দামে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তার পেছনে স্প্লিট একমাত্র কারণ নয়। সে সময় অনেক কোম্পানি লভ্যাংশ বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গেও স্প্লিট করত। ফলে শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে স্প্লিটের চেয়ে লভ্যাংশ বৃদ্ধির খবরই বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।
পরে ১৯৯৬ সালে ইকেনবেরি, র্যাঙ্কিন ও স্টাইস ১ হাজার ২৭৫টি শেয়ার স্প্লিট বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, স্প্লিটের পর প্রথম বছরে কোম্পানিগুলোর শেয়ার থেকে গড়ে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়তি রিটার্ন পাওয়া গেছে। তাঁদের ব্যাখ্যা ছিল, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ ভালো মনে করলেই অনেক সময় স্প্লিটের সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ স্প্লিট নিজে বাড়তি রিটার্ন তৈরি করে না, বরং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আত্মবিশ্বাসের একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে এই গবেষণাগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর করা। তাই প্রতিটি কোম্পানির ক্ষেত্রেই একই ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের মতো তুলনামূলক ছোট ও কম গভীর বাজারে স্প্লিটের ঘোষণা ঘিরে বাস্তব তথ্যের চেয়ে গুজব ও অতিরিক্ত প্রত্যাশা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০১০ সালের অভিজ্ঞতা তার একটি উদাহরণ।
পরের বার দাম অর্ধেক দেখলে কী করবেন
শেষ পর্যন্ত শেয়ার সস্তা না দামি, তা বোঝার জন্য শুধু বাজারদর দেখলে হবে না। দেখতে হবে কোম্পানির আয়, সম্পদ ও ব্যবসার তুলনায় সেই দাম কতটা যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে পিই রেশিও, এনএভির তুলনায় বাজারদর এবং ডিভিডেন্ড থেকে প্রকৃত আয়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার স্প্লিটের পর এসব অনুপাত সাধারণত আগের মতোই থাকে। কারণ শেয়ারের দাম যেমন কমে, শেয়ারপ্রতি আয় ও নিট সম্পদমূল্যও একই অনুপাতে কমে যায়।
তাই কোনো শেয়ারের দাম হঠাৎ অর্ধেক হয়ে গেলে প্রথমেই বুঝতে হবে, এটি কি শেয়ার স্প্লিটের কারণে হয়েছে, নাকি কোম্পানির ব্যবসা বা আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণে বাজারদর কমেছে। প্রথম ক্ষেত্রে আপনি কম দামে শেয়ার কিনছেন না, বরং একই কোম্পানির মালিকানাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পাচ্ছেন। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কোম্পানির মূল্যায়ন কেন কমেছে, সেটি খুঁজে দেখতে হবে। কারণ কম দাম কখনো সুযোগ হতে পারে, আবার কখনো বড় ঝুঁকির সংকেতও হতে পারে।
আমার কাছে তাই শেয়ার স্প্লিটের ঘোষণা কেনার সংকেত নয়, বরং নতুন করে হিসাব করার একটি কারণ। কোম্পানি কেন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার ব্যবসার ভবিষ্যৎ কেমন এবং শেয়ারের বর্তমান মূল্যায়ন কতটা যৌক্তিক, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। পরের বার কোনো শেয়ারের দাম অর্ধেক দেখলে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন: শেয়ারের টুকরো বেড়েছে, নাকি পুরো পিৎজাটাই ছোট হয়ে গেছে?
এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। শেয়ার স্প্লিটের হিসাব সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা মাত্র। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি।
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

