বাংলাদেশ গত এক দশকে ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে, স্মার্টফোন মানুষের হাতে হাতে পৌঁছেছে, তরুণ জনগোষ্ঠী প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়েছে, আর সরকারি উদ্যোগের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নাগরিক সেবার অনেক অংশ অনলাইনভিত্তিক হয়ে উঠেছে। একসময় যে কাজের জন্য দীর্ঘ লাইন, কাগজপত্রের ঝামেলা এবং অফিসে বারবার যাতায়াত দরকার হতো, এখন তার অনেক কিছু মোবাইল ফোন বা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, কর জমা, সরকারি আবেদন, আর্থিক লেনদেন, চিকিৎসা-পরামর্শ, শিক্ষা কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রভাব স্পষ্ট।
তবে এই অগ্রগতি যতটা দৃশ্যমান, এর ভেতরের দুর্বলতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রযুক্তিকে পরিচালনা করার জন্য যে শক্তিশালী শাসন কাঠামো, সমন্বিত আইন, নিরাপদ তথ্যব্যবস্থা এবং দক্ষ মানবসম্পদ দরকার, সেখানে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই বৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে শুধু নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করলেই চলবে না। দরকার এমন একটি কাঠামো, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, আইন, তথ্যনিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো একই দিকনির্দেশনায় কাজ করবে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের নীতিগত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এমন একটি সর্বজনীন পরিশোধ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, যা ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং সরকারি প্ল্যাটফর্মকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্ত করতে পারে। এই ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হলে তথ্যের নিরাপদ প্রবাহ, সিস্টেমের পারস্পরিক সংযোগ, আইনগত দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পরিষ্কার হতে হবে। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা দিয়ে এসব সম্ভব নয়। দরকার বাস্তবভিত্তিক রূপান্তর পরিকল্পনা।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে তিনটি বিষয় থাকা জরুরি। প্রথমত, ডিজিটাল জনঅবকাঠামো গঠনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক আইন প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ডিজিটাল অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে একীভূত ও সমন্বিত করতে হবে।
বিচ্ছিন্ন প্ল্যাটফর্মের সমস্যা
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল জনঅবকাঠামো বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অনেকটাই আলাদা আলাদা কাঠামোতে তৈরি হয়েছে। একটির সঙ্গে অন্যটির সহজ সংযোগ নেই। ফলে একই ধরনের কাজ বারবার করতে হয়, সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের জটিলতার মুখে পড়তে হয় এবং সরকারি ব্যবস্থার ভেতরেও অদক্ষতা তৈরি হয়।
এটি কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। বরং এর মূল কারণ কাঠামোগত। কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম বানায়, অন্য সংস্থা আলাদাভাবে আরেকটি ব্যবস্থা তৈরি করে, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা থাকে না। এর ফলে ডিজিটাল সেবা থাকলেও তা অনেক সময় নাগরিকের জন্য সহজ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে না। ডিজিটাল ব্যবস্থার আসল শক্তি হলো সংযোগ, দ্রুততা এবং সমন্বয়। এই তিনটির ঘাটতি থাকলে প্রযুক্তির সুফল সীমিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা, অনলাইন বাণিজ্য, ইন্টারনেট সংযোগ এবং নতুন উদ্যোগের বড় অংশ এগিয়েছে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। কিন্তু ডিজিটাল জনঅবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে যথেষ্টভাবে অংশীদার করা হয়নি। এটি একটি বড় সীমাবদ্ধতা। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থায়ন নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বোঝার ক্ষমতা, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতাও নিয়ে আসে।
ডিজিটাল সিস্টেম চালু করাই শেষ কথা নয়। বরং চালুর পর সেটি কতদিন কার্যকর থাকে, নাগরিকের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত হয় কি না, নিরাপত্তা বজায় থাকে কি না এবং নতুন চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে কি না—এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রকল্প মূল্যায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা সম্ভব। তা না হলে অনেক সরকারি ডিজিটাল সেবা প্রথমে আলোচনায় আসে, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে অকার্যকর বা দুর্বল হয়ে পড়ে।
শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশের জন্য শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও শ্রীলঙ্কা জাতীয় ডিজিটাল অর্থনীতি কৌশল ২০৩০ গ্রহণ করে। ২০২৫ সালে দেশটি অ্যাক্সিয়াটা গ্রুপের টেলিযোগাযোগ ব্যবসার সাবেক প্রধান নির্বাহী ড. হ্যান্স বিজয়াসুরিয়াকে রাষ্ট্রপতির ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়। এটি ছিল কেবল একটি পদায়ন নয়; বরং ডিজিটাল অবকাঠামো কীভাবে বাস্তবে গড়ে ওঠে, কীভাবে টিকে থাকে এবং কীভাবে বেসরকারি অভিজ্ঞতা সরকারি নীতিতে কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয়ে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের বাস্তবতা শ্রীলঙ্কার মতো নয়, তবে শিক্ষা নেওয়ার জায়গা আছে। ডিজিটাল রূপান্তর শুধু সরকারি ঘোষণার বিষয় নয়। এটি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, আইন, অর্থনীতি এবং নাগরিক আস্থার সমন্বিত ফল। তাই নেতৃত্বের জায়গায় এমন মানুষ ও প্রতিষ্ঠান দরকার, যারা প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বাস্তব চ্যালেঞ্জ বোঝে।
আইন থাকলেই হবে না, কার্যকর প্রয়োগ দরকার
ডিজিটাল জনঅবকাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তথ্যের নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রবাহ। কিন্তু পারস্পরিক সংযোগ যদি শুধু স্বেচ্ছাভিত্তিক হয়, তাহলে তা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। তাই আইনগত বাধ্যবাধকতা দরকার। কোন সংস্থা কীভাবে তথ্য বিনিময় করবে, কোনো ভুল বা তথ্য ফাঁস হলে দায় কার, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সাইবার হামলার ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা নেবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে আইনে নির্ধারিত হওয়া জরুরি।
২০২৫ সালের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে হ্যাকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রতারণা এবং অনলাইন হয়রানির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই বছরে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশেও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো অবশ্যই অগ্রগতির দিক। কিন্তু শুধু আইন পাস করলেই সুশাসন তৈরি হয় না। প্রয়োগের সক্ষমতা না থাকলে আইন কাগজে থাকে, বাস্তব ব্যবস্থায় তার প্রভাব সীমিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল এখনও পর্যাপ্ত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সাইবার অপরাধ বিষয়ে সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি আছে। আবার কোন সংস্থা কোন দায়িত্ব পালন করবে, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে পরিষ্কার নয়। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড, গোপনীয়তার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। গণতান্ত্রিক সমাজে তথ্য সুরক্ষা মানে শুধু তথ্য নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা।
এই কারণে আইনকে কার্যকর করতে হলে সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা বাড়াতে হবে, কেন্দ্রীয়ভাবে শক্তিশালী কম্পিউটার জরুরি সাড়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পরিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় আইন থাকবে, কিন্তু নাগরিকের আস্থা তৈরি হবে না।
নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জটিলতা
ডিজিটাল অর্থনীতির আরেকটি বড় সমস্যা হলো নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিচ্ছিন্নতা। আগে টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা, গণমাধ্যম, জ্বালানি বা সরকারি সেবা আলাদা আলাদা খাত হিসেবে পরিচালিত হতো। এখন এগুলোর বড় অংশ একই ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও পুরোনো বিভাজন ধরে এগোচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে মোবাইল আর্থিক সেবার কথা বলা যায়। এটি চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের ওপর, যেখানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ভূমিকা আছে। কিন্তু এর আর্থিক দিক তদারক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নীতির বিষয়গুলো অন্য বিভাগ বা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে সম্প্রচার, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট মিটার বা ডিজিটাল জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও একাধিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জড়িয়ে যায়। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়, দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং উদ্ভাবন অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যায়।
ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত চলে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধীর হলে বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং ব্যবহারকারী—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাংলাদেশের দরকার এমন একটি প্রাথমিক শাসন কাঠামো, যেখানে ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি নীতি, তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বড় দিকগুলো একসঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে।
অন্য দেশের পদক্ষেপ
নাইজেরিয়া তার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে যোগাযোগ, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ে রূপ দেয়। সেখানে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থাকে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ২০২৩ সালে আলাদা ডিজিটাল মন্ত্রণালয় গঠন করে। শ্রীলঙ্কা ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয় তৈরি করে, যাতে তার ডিজিটাল অর্থনীতি কৌশল ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে।
এসব পদক্ষেপ শুধু নাম পরিবর্তন নয়। এগুলো ছিল দায়িত্ব একীভূত করার চেষ্টা। ডিজিটাল অর্থনীতি যখন বহু খাতকে এক জায়গায় নিয়ে আসে, তখন শাসন কাঠামোকেও একইভাবে সমন্বিত হতে হয়। বাংলাদেশেও এমন একটি একীভূত মন্ত্রণালয় বা ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান দরকার, যা ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি নীতি, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকে এক ছাতার নিচে সমন্বয় করতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে মূল প্রশ্ন
বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, এই অগ্রগতি কি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে? নাগরিক সেবায় দ্রুততা এসেছে, অনলাইন লেনদেন বেড়েছে, নতুন উদ্যোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগত সমন্বয় দুর্বল থাকলে এই অগ্রগতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাৎক্ষণিক পরিশোধ ব্যবস্থা, ডিজিটাল জনসেবা এবং তথ্যনির্ভর প্রশাসনের যুগে বিচ্ছিন্ন নীতি দিয়ে এগোনো কঠিন। বাংলাদেশকে এখন ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে, আইনকে কার্যকর করতে হবে, তথ্য সুরক্ষায় নাগরিক আস্থা তৈরি করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে যুগোপযোগী করতে হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু ইন্টারনেট সংযোগ বা অনলাইন সেবার নাম নয়। এটি একটি শাসনব্যবস্থার প্রশ্ন। প্রযুক্তি যত দ্রুত বদলাবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেও তত দ্রুত শিখতে, বদলাতে এবং সমন্বয় করতে হবে। না হলে প্রযুক্তির বিস্তার থাকবে, কিন্তু তার পূর্ণ সুফল নাগরিক ও অর্থনীতি পাবে না।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ বড়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ডিজিটাল অর্থনীতিকে আর বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের সমষ্টি হিসেবে দেখা যাবে না। এটিকে দেখতে হবে জাতীয় উন্নয়ন, সুশাসন, নাগরিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে। এখন সময় এসেছে ডিজিটাল অগ্রগতির সঙ্গে ডিজিটাল শাসনকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার।

