বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আনতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। খুব শিগগিরই এই প্ল্যাটফর্মে ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। ফলে ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশ না করেই নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলা, গ্রুপে যুক্ত হওয়া কিংবা ব্যবসায়িক যোগাযোগ করা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
হোয়াটসঅ্যাপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারী নিজের জন্য একটি আলাদা ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে আর ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না। বরং সেই ইউজারনেম দিয়েই পরিচিত হওয়া এবং বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে।
কেন আনছে এই পরিবর্তন?
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে সাধারণত ফোন নম্বর জানা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে বড় গ্রুপে যুক্ত হলে বা নতুন কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর নম্বর অন্যদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে যায়।
এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষক, সাংবাদিক কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যক্তিগত নম্বর সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এই সমস্যার সমাধান দিতেই ইউজারনেম ব্যবস্থা চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ।
কীভাবে কাজ করবে?
নতুন সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র ইউজারনেম তৈরি করতে পারবেন। এরপর অন্য কেউ সেই ইউজারনেম ব্যবহার করেই যোগাযোগ করতে পারবেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এ জন্য কোনো উন্মুক্ত তালিকা বা অনুসন্ধানভিত্তিক ডিরেক্টরি থাকবে না। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো নাম লিখে কাউকে খুঁজে বের করা যাবে না।
কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তার সঠিক ইউজারনেম জানতে হবে। এতে অচেনা মানুষের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যাবে।
গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী হবে
নতুন এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যক্তিগত ফোন নম্বর আরও নিরাপদ থাকবে। বড় গ্রুপে যোগ দেওয়া, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা কিংবা অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে আর নিজের মোবাইল নম্বর সবার কাছে প্রকাশ করতে হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ অনেক বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা হোয়াটসঅ্যাপের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সবার পছন্দের নাম পাওয়া নাও যেতে পারে
হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মে ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কারণে অনেকের কাঙ্ক্ষিত ইউজারনেম আগে থেকেই অন্য কেউ নিয়ে রাখতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বিকল্প নাম নির্বাচন করতে হতে পারে।
ধাপে ধাপে চালু হবে
মেটা জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইউজারনেম সংরক্ষণের সুবিধা চালু করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলে সুবিধাটি চালু হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কনটেন্ট নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সুবিধা
নতুন ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যারা ইতোমধ্যে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে নির্দিষ্ট একটি ইউজারনেম ব্যবহার করছেন, তারা চাইলে একই পরিচয় হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।
এতে কনটেন্ট নির্মাতা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের জন্য একক ডিজিটাল পরিচয় বজায় রাখা আরও সহজ হবে। একই নাম ব্যবহার করায় অনুসারী বা গ্রাহকদের জন্যও সঠিক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি নতুন সুবিধা নয়; এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় একটি পরিবর্তনের সূচনা। বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মে ইউজারনেম ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপে এতদিন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ফোন নম্বর।
নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী হবে, অনলাইন নিরাপত্তা বাড়বে এবং ব্যক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই যোগাযোগ আরও সহজ, নিরাপদ ও পেশাদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

