প্রতিদিন একবার স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার অভ্যাস এখন অনেকেরই। তবে এতে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে, তা নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, তার খরচ খুবই সামান্য।
বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (mAh) ব্যাটারি এবং ২০ থেকে ৪৫ ওয়াটের চার্জার ব্যবহৃত হয়। একটি ফোন পুরোপুরি চার্জ দিতে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট-আওয়ার (Wh) বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপে অপচয় হওয়ায় প্রকৃত ব্যবহার সামান্য বেশি হতে পারে।
গড়ে প্রতিদিন যদি ০.০২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাহলে ৩০ দিনে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ০.৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ধরলে মাসে একটি স্মার্টফোন প্রতিদিন একবার চার্জ দিতে খরচ হবে প্রায় ৬ টাকা। আর প্রতি ইউনিট ১২ টাকা হলেও মাসিক ব্যয় হবে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা।
অর্থাৎ স্মার্টফোন চার্জিংয়ের বিদ্যুৎ খরচ অনেকের ধারণার তুলনায় অনেক কম। এটি কয়েক ঘণ্টা একটি এলইডি বাতি জ্বালানোর খরচেরও নিচে থাকতে পারে।
তবে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী চার্জিংয়ের জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সব সময় নির্মাতার দেওয়া বা মানসম্মত চার্জার ব্যবহার করা ভালো। অপ্রয়োজনে ফোন দীর্ঘ সময় চার্জে লাগিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত। যদিও আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যাটারি পূর্ণ হলে চার্জিং প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তবুও চার্জার কিছুটা স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
এ ছাড়া নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত চার্জার ব্যবহার করলে শুধু বিদ্যুতের অপচয় নয়, ব্যাটারির আয়ুও কমে যেতে পারে। তাই নিরাপদ চার্জিং অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে প্রতিদিন একবার স্মার্টফোন চার্জ দিলে মাসিক বিদ্যুৎ বিলের ওপর এর প্রভাব খুবই নগণ্য। বরং রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, গিজার বা ওয়াই-ফাই রাউটারের তুলনায় স্মার্টফোন চার্জিংয়ের বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত কম।

