আজকের দিনে অর্থ বা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্রযুক্তিই ভরসা। তবে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হওয়ার অনেক আগেই এমন একটি ব্যবস্থা ছিল, যা দ্রুত নগদ অর্থ ও নথিপত্র আদান-প্রদান সম্ভব করত।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ঐতিহাসিক মার্শাল ফিল্ডস ডিপার্টমেন্ট স্টোরে একসময় স্থাপন করা হয়েছিল বিস্তৃত বায়ুচালিত নলের (নিউম্যাটিক টিউব) একটি নেটওয়ার্ক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবনের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কক্ষে পৌঁছে যেত নগদ অর্থ, রসিদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোর জন্য এটি ছিল অত্যাধুনিক যোগাযোগ ও লেনদেন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে বিশেষ ধরনের ক্যানিস্টারে টাকা বা নথি রাখা হতো। এরপর বায়ুচাপের সাহায্যে ক্যানিস্টারগুলো নলের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাঠানো হতো।
কেন্দ্রীয় কক্ষে কর্মরত অপারেটররা ক্যানিস্টার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতেন। এরপর একই বায়ুচালিত ব্যবস্থায় খুচরা টাকা, রসিদ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবার সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ডিজিটাল যোগাযোগের আগের সময়ে এই প্রযুক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে দ্রুত ও সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় তা ছিল তথ্য ও অর্থ আদান-প্রদানের অন্যতম কার্যকর এবং দ্রুততম পদ্ধতি।
বর্তমানে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত। তবে এর উন্নত সংস্করণ এখনো বিশ্বের অনেক হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে বায়ুচালিত নলের মাধ্যমে দ্রুত রক্তের নমুনা, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং জরুরি ওষুধ পাঠানো হয়। এতে চিকিৎসাসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব হয়।

