বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মান যাচাই করতে গিয়ে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নিজস্ব পরিমাপের বেশ কিছু পার্থক্য পাওয়া গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত জুলাই ২০২৪-এর পারফরম্যান্স রিকনসিলিয়েশন প্রতিবেদনে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সূচকে এমন অমিল উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রবির ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবার মান নির্ধারিত সীমার নিচে থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে।
বিটিআরসির মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে রবির নেটওয়ার্কের বিভিন্ন সূচকের ফলাফল এবং অপারেটরটির নিজেদের দেওয়া প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কল ড্রপ, কল সংযোগের সফলতা, ভয়েস সেবা এবং ইন্টারনেটের গতি—বিভিন্ন সূচকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিমাপ ও রবির দেওয়া হিসাব এক হয়নি।
প্রতিবেদনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় পর্যায়ে রবির ৪১ হাজার ৮১৯টি সেলের কাঁচা বা সরাসরি সংগৃহীত তথ্য বিটিআরসির কাছে জমা দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে অপারেটরটি নিজেদের প্রক্রিয়াজাত করা সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ফলে নেটওয়ার্কের প্রকৃত কর্মক্ষমতা এবং বিভিন্ন ত্রুটি স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে বিটিআরসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিটিআরসির মতে, কোনো মোবাইল অপারেটরের সেবার মান যথাযথভাবে যাচাই করতে সরাসরি সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিপুলসংখ্যক সেলের মূল তথ্যের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত সারসংক্ষেপ ব্যবহার করা হলে নেটওয়ার্কের বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে।
জাতীয় পর্যায়ের পরিমাপের দিকে তাকালে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। ২জি কল ড্রপের হার বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ২৪০৫ শতাংশ। অথচ রবির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এই হার দেখানো হয়েছিল শূন্য দশমিক ২১৭৪ শতাংশ।
৪জি গড় ডাউনলোড গতির ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিটিআরসির পরিমাপে রবির জাতীয় গড় গতি ছিল ৬ দশমিক ৮৪৭৭ এমবিপিএস। বিপরীতে রবির নিজস্ব প্রতিবেদনে তা দেখানো হয় ৭ দশমিক ০৫৪৪ এমবিপিএস।
২জি কল সেটআপ সফলতার হার বিটিআরসির হিসাবে ছিল ৯৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। রবি নিজেদের হিসাবে এই হার ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ উল্লেখ করে। ৪জি এলটিই ই-আরএবি নন-রিটেইনেবিলিটির ক্ষেত্রেও বিটিআরসির পরিমাপ ছিল শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ, যেখানে রবির প্রতিবেদনে তা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।
৪জি আরআরসি সাকসেস রেট বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায় ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। রবি এ ক্ষেত্রে ৯৯ দশমিক ৮৬ শতাংশের কথা জানিয়েছিল। ভিওএলটিই কল সেটআপ সাকসেস রেটেও দুই পক্ষের হিসাবে পার্থক্য দেখা যায়। বিটিআরসির হিসাবে এটি ছিল ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, আর রবির প্রতিবেদনে দেখানো হয় ৯৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।
ভিওএলটিই ড্রপ বা অস্বাভাবিকভাবে কল শেষ হওয়ার হার বিটিআরসির পরিমাপে ছিল শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। রবি নিজেদের হিসাবে তা শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ দেখিয়েছে। ভিওএলটিই ও জিএসএম মিলিয়ে অস্বাভাবিক কল সমাপ্তির হার বিটিআরসির হিসাবে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও রবির তথ্যে তা ছিল শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।
একইভাবে ভিওএলটিই ও জিএসএম সমন্বিত ভয়েস কল সেটআপ সফলতার হার বিটিআরসির পরিমাপে ৯৯ দশমিক ৫২ শতাংশ পাওয়া যায়। রবি সেখানে ৯৯ দশমিক ৫৬ শতাংশের কথা জানিয়েছে। সিএসএফবি সাকসেস রেটের ক্ষেত্রেও বিটিআরসির পরিমাপ ছিল ৯৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যেখানে রবির হিসাবে তা ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এসএমএস সম্পন্ন হওয়ার হার বিটিআরসির রেকর্ডে ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও রবির প্রতিবেদনে সেটি ৯৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ দেখানো হয়েছিল।
তবে জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিত্র। বিশেষ করে ২জি কল সেটআপের সফলতার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি এলাকায় নির্ধারিত মান অর্জিত হয়নি।
জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী ২জি কল সেটআপ সাকসেস রেট কমপক্ষে ৯৯ শতাংশ থাকার কথা। কিন্তু দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে তিনটি জেলায় রবি এই সীমা পূরণ করতে পারেনি। অর্থাৎ ৬১টি জেলা নির্ধারিত মান পূরণ করলেও তিনটি জেলা উত্তীর্ণ হয়নি।
উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের সমস্যা পাওয়া গেছে। দেশের ৫৪৪টি উপজেলার মধ্যে ২৪টি উপজেলায় রবি নির্ধারিত ৯৯ শতাংশ মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে ৫২০টি উপজেলা নির্ধারিত সীমা পূরণ করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার কয়েকটি উপজেলায় পরিস্থিতি আরও দুর্বল বলে বিটিআরসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। থানচিতে ২জি কল সেটআপ সফলতার হার নেমে এসেছে ৯০ দশমিক ৬০ শতাংশে। রুমায় এই হার ছিল ৯১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। রোয়াংছড়িতে ৯৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ৯৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
ভয়েস কল সংযোগের ক্ষেত্রেও বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। থানচিতে ভয়েস কল সেটআপ সফলতার হার ছিল ৯৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং রুমায় ৯৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দুটি ক্ষেত্রেই বিটিআরসির নির্ধারিত ৯৯ শতাংশ মানদণ্ডের চেয়ে ফলাফল কম।
বান্দরবান জেলার ২জি কল ড্রপের হার নিয়েও দুই পক্ষের তথ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে হারটি ছিল শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে রবি তাদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এই হার শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ উল্লেখ করেছিল।
শুধু বান্দরবান নয়, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন দুর্গম এলাকাতেও ভয়েস সেবার মান নির্ধারিত সীমার নিচে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় ভয়েস কল সেটআপ সফলতার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। লক্ষ্মীছড়িতে তা ৯৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, মহালছড়িতে ৯৭ দশমিক ১৫ শতাংশ, মানিকছড়িতে ৯৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, পানছড়িতে ৯৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং রামগড়ে ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
রাঙামাটির লংগদু ও নানিয়ারচরেও পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না। সেখানে ভয়েস কল সেটআপ সফলতার হার যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৪১ শতাংশ ও ৯৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাঘাইছড়িতে এই হার ৯৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, বরকলে ৯৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিলাইছড়িতে ৯৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং কাউখালীর বেতবুনিয়ায় ৯৮ দশমিক ০১ শতাংশ পাওয়া গেছে।
ইন্টারনেটের গতির ক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের সঙ্গে আঞ্চলিক বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। ৪জি ডাউনলোড গতির জন্য জাতীয় মানদণ্ড ছিল ৩ দশমিক ৫০ এমবিপিএস। রবির জাতীয় গড় গতি ৬ দশমিক ৮৪৭৭ এমবিপিএস হওয়ায় সামগ্রিকভাবে অপারেটরটি এই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব জায়গায় একই ধরনের গতি পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার বড় অংশে ইন্টারনেটের গতি ১৫ থেকে ২০ এমবিপিএস পর্যন্ত থাকলেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কিছু এলাকায় তা ২ থেকে ৩ এমবিপিএসের মধ্যে নেমে এসেছে।
বাগেরহাটের চিতলমারী ও মোংলা উপজেলার উদাহরণও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব এলাকায় ৪জি ডাউনলোড গতি মাত্র ২ দশমিক ৬৯ এমবিপিএসে নেমে গিয়েছিল।
বাগেরহাট জেলার সামগ্রিক হিসাবেও বিটিআরসি ও রবির দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে জেলার গড় ৪জি গতি ছিল ৩ দশমিক ৪১ এমবিপিএস। অথচ রবির প্রতিবেদনে সেটি ৪ দশমিক ০৬ এমবিপিএস হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উপজেলাভিত্তিক ভয়েস সেবার মান পূরণের হিসাবেও অমিল পাওয়া গেছে। ভিওএলটিই ও জিএসএম সমন্বিত ভয়েস সেটআপ সফলতার ক্ষেত্রে বিটিআরসির পরিমাপে ৫৩৮টি উপজেলা নির্ধারিত মান পূরণ করেছে এবং ছয়টি উপজেলা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু রবির জমা দেওয়া তথ্যে ৫৩৩টি উপজেলা উত্তীর্ণ এবং ১১টি অনুত্তীর্ণ হিসেবে দেখানো হয়।
বিটিআরসি জানিয়েছে, অতীতে মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া জাতীয় পর্যায়ের প্রক্রিয়াজাত প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গ্রহণ করা হতো। সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই বা পুনর্মিলন করার সুযোগ সীমিত ছিল। এবার প্রথমবারের মতো স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এই ধরনের মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শুধু কোনো একটি অপারেটরের দুর্বলতা তুলে ধরা নয়। বরং দেশের কোন কোন এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বল, কোথায় গ্রাহকরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন এবং কোন অঞ্চলে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন—এসব তথ্য নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করাও এর লক্ষ্য।
এই তথ্যের ভিত্তিতে দুর্বল এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক ড্রাইভ টেস্ট চালানো এবং অপারেটরদের প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি অপারেটরদের জবাবদিহিও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে রবির পক্ষ থেকেও বিটিআরসির মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, টিএমএস তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই তথ্য একটি নির্দিষ্ট ধরনের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির ফল এবং এটি অপারেটরের সামগ্রিক নেটওয়ার্ক কর্মক্ষমতা, বিস্তৃত কভারেজ কিংবা সব গ্রাহকের অভিজ্ঞতার পূর্ণ চিত্র নাও দিতে পারে।
রবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়াও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই শুধু টিএমএস তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কভারেজ, কল ড্রপ, ইন্টারনেটের গতি এবং নেটওয়ার্ক সচল থাকার হারসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা উচিত।
কাঁচা তথ্য জমা না দেওয়া এবং নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থতার পরও কেন তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ নেটওয়ার্ক কাঁচা বা বাইনারি তথ্য ব্যবহৃত হয়। রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রযুক্তিগত ও তথ্য সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সংগৃহীত তথ্য সাত দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।
বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, কমিশন ও অপারেটরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং নতুন প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সে কারণেই বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও বিস্তৃত তথ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে তিনটি জেলা ও ২৪টি উপজেলায় রবির সেবা নির্ধারিত মানে না পৌঁছানোর বিষয়েও বিটিআরসি জানিয়েছে, কমিশন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। রবি বর্তমানে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিটিআরসির বক্তব্য অনুযায়ী, আইন ও লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে।
পুরো বিষয়টি থেকে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা হলো, জাতীয় গড় পরিসংখ্যানে রবির নেটওয়ার্ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড পূরণ করলেও অঞ্চলভেদে সেবার মানে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম ও পার্বত্য এলাকার কয়েকটি উপজেলায় ভয়েস কল সংযোগের সফলতা জাতীয় মানদণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
একই সঙ্গে বিটিআরসির নিজস্ব পরিমাপ এবং রবির জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে একাধিক সূচকে পার্থক্য থাকায় তথ্য যাচাই ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে রবির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পার্থক্যের পেছনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পদ্ধতিগত বিষয়ও রয়েছে।
ফলে ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কের প্রকৃত মান নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য কাঁচা তথ্য, স্বাধীন পরিমাপ এবং একই ধরনের যাচাই পদ্ধতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়ন আরও গ্রহণযোগ্য হবে, অন্যদিকে অপারেটরদেরও কোন এলাকায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। শেষ পর্যন্ত এর সুফল পাওয়ার কথা মোবাইল সেবা ব্যবহারকারী গ্রাহকদেরই।
সূত্র: জাতীয় অর্থনীতি

