Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, অক্টো. 29, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » নেতানিয়াহুকে হারানোর অঙ্ক মিলছে, তবু বাধা কোথায়?
    আন্তর্জাতিক

    নেতানিয়াহুকে হারানোর অঙ্ক মিলছে, তবু বাধা কোথায়?

    এফ. আর. ইমরানঅক্টোবর 29, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে জটিলতা, নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সামনে জোট গঠনের চ্যালেঞ্জ। আরব দলগুলোর সমর্থনই হয়ে উঠতে পারে সরকার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। ছবি: এআই
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইসরায়েলের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে স্বপ্ন দেখেছিল বিরোধী শিবির, ভোট গণনার অগ্রগতিতে সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়েছে কঠিন বাস্তবতা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও সরকার গঠনের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে তাঁর ডানপন্থী জোট। অন্যদিকে, আরব ভোটারদের অভাবনীয় উত্থান ইসরায়েলের ক্ষমতার রাজনীতিতে তৈরি করেছে এক বিরাট ধাঁধা। নেতানিয়াহুর হাতে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, আবার বিরোধীদের হাতেও নেই তাঁকে সরানোর সহজ পথ। তাহলে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে? নাকি ভোটের এই নাটকীয় ফল ইসরায়েলকে ঠেলে দেবে আরেক দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থায়?

    ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবরে (প্রতিবেদন লেখার সময়) এ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৯টি আসনের পথে রয়েছে।

    Israel
    ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ। এক বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘বিবির যুদ্ধ বন্ধ করো’ (Stop BB’s War)। ছবি: সংগৃহীত

    এই হিসাবের রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর। নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে থাকলেও বিরোধী শিবিরের চেয়ে পাঁচ আসনে এগিয়ে। অথচ নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি ও আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন একত্র করলে দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হওয়ার গাণিতিক সুযোগ রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সেই শক্তিকে একটি সরকারে পরিণত করাই সবচেয়ে বড় বাধা।

    এখানেই ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া পথ নিশ্চিত করা অসম্ভব। আবার সরকারবিরোধী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে না। প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা, পারস্পরিক আস্থা এবং এমন একটি জোট, যা নেসেটে টিকে থাকতে পারবে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও বাজিমাত?

    নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কম জল্পনা হয়নি। গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধ, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, দুর্নীতির বিচার এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ মিলিয়ে অনেকের ধারণা ছিল, এবার হয়তো তাঁর দীর্ঘ ক্ষমতার অধ্যায়ে বড় ধরনের ধাক্কা আসছে। কিন্তু ভোটের বাক্স খুলতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

    ইসরায়েলের ভোটযুদ্ধ শেষ হলেও ক্ষমতার আসল যুদ্ধ এখন শুরু

    ২৮ অক্টোবরের টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনায় নেতানিয়াহুর লিকুদ এককভাবে ২৬টি আসনের পথে রয়েছে। আইজেনকোটের ইয়াশার পাচ্ছে ২১টি। অর্থাৎ একক দল হিসেবে লিকুদ আবারও নেসেটের বৃহত্তম শক্তি হওয়ার পথে। তবে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসন বর্তমান পার্লামেন্টের ৬৮ থেকে ৫৩-তে নেমে আসছে। এটি তাঁর জোটের জন্য বড় ক্ষতি, যদিও বিরোধীদের প্রত্যাশিত রাজনৈতিক বিজয় এখনও আসেনি।

    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

    রয়টার্সের ২৮ অক্টোবরের বিশ্লেষণে নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা আভিভ বুশিনস্কি এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক পুনরুত্থান হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মূল্যায়ন, নেতানিয়াহুকে বিজয়ী বলতে অস্বস্তি হলেও নির্বাচনের পর তাঁর অবস্থান অনেকের ধারণার চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেখানে ৬১ আসনের দরকার, সেখানে ৫৩ আসন নিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় ফিরবেন নেতানিয়াহু?

    এখানেই তাঁর সামনে কঠিন অঙ্ক। আটজন অতিরিক্ত (আসন) আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে, অথবা এমন রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হবে যাতে নতুন সরকার আস্থা ভোটে টিকে যেতে পারে। অথচ বিরোধী দলগুলোর নেতারা নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    নেতানিয়াহুর জন্য আরও বড় সমস্যা নিজের জোটের ভেতরে। কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের মতো মিত্রদের ধরে রেখে মধ্যপন্থী বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করা সহজ নয়। কারণ, নিরাপত্তানীতি, ফিলিস্তিন প্রশ্ন, ধর্মীয় ইস্যু এবং সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

    সুতরাং নেতানিয়াহু ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিকভাবে টিকে গেলেও সরকার গঠনের লড়াইয়ে এখনো জয়ী হননি। বরং তাঁর সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য রাজনৈতিক ভুল পুরো হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে।

    আরব ভোটে ক্ষমতার ধাঁধা

    ইসরায়েলের নির্বাচনে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা সম্ভবত নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন নয়; বরং আরব-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের রাজনৈতিক শক্তির অভাবনীয় উত্থান।

    জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সম্মিলিত আসন ১৯-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। আগের নেসেটে তাদের সম্মিলিত আসন ছিল ১০টি। অর্থাৎ এই ফল বহাল থাকলে প্রতিনিধিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হবে।

    নির্বাচনে প্রথম বুথফেরত জরিপের ফল টেলিভিশনে প্রচারের সময় উল্লাস করেন দেশটির আরব-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন (মাঝে) ও জোটের অন্য সদস্যরা। ছবি: এএফপি
    নির্বাচনে প্রথম বুথফেরত জরিপের ফল টেলিভিশনে প্রচারের সময় উল্লাস করেন দেশটির আরব-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন (মাঝে) ও জোটের অন্য সদস্যরা। ছবি: এএফপি
    গাজায় যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আরব নাগরিকদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ এই ভোটের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। আরব ভোটারদের এই অংশগ্রহণকে শুধু আসন বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো তাৎপর্য বোঝা যাবে না। এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে নিজেদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার প্রচেষ্টাও।

    কিন্তু রাজনৈতিক ধাঁধাটি এখানেই।

    আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইহুদি বিরোধী শিবিরের ৪৮ আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯টি যোগ করলে হয় ৬৭। সংখ্যাটি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১-এর চেয়েও ছয় বেশি।

    অথচ নাফতালি বেনেট ও আভিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের পথে বড় বাধা। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটস ছাড়া নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    তাহলে প্রশ্ন ওঠে, নেতানিয়াহুকে সরানোই যদি বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়, তবে সেই লক্ষ্য পূরণে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণে আপত্তি কেন?

    এর উত্তর ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করলেই ফিলিস্তিন প্রশ্নে সব বিরোধী দল একই অবস্থানে চলে আসে না। আইজেনকোট, বেনেট কিংবা লিবারম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান থেকে অনেক ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে আলাদা।

    ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী ভোটকে একটি কার্যকর সরকারে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এই বাস্তবতায় আরব দলগুলো নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী শক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠলেও তাদের সামনে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন রয়েছে: যাদের ভোট ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন কঠিন, তাদের রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী নেতারা কতটা প্রস্তুত?

    আইজেনকোটের সামনে দেয়াল

    সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ছবি: এপি
    সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ছবি: এপি

    সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের জন্য নির্বাচনের ফল একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও হতাশার।

    তাঁর নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির নেতানিয়াহুকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ঐক্য এখনো তৈরি করতে পারেনি।

    আইজেনকোটের সামনে অন্তত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী একটি কার্যকর সংসদীয় সমঝোতা গড়ে তোলা। দ্বিতীয়টি হলো, নেতানিয়াহুর শিবিরের কোনো অংশকে নিজেদের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করা।

    দুটিই কঠিন।

    প্রথম পথ গ্রহণ করলে তাঁর ডানপন্থী মিত্রদের আপত্তি সামলাতে হবে। দ্বিতীয় পথ গ্রহণ করলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের অবস্থান পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে।

    নেতানিয়াহুকে সরানোই যদি বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়, তবে সেই লক্ষ্য পূরণে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণে আপত্তি কেন?

    জেরুজালেম পোস্টের ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়াইর গোলান আরব দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোকে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    Yair golan
    ইয়াইর গোলান। ছবি: রয়টার্স
    আইজেনকোটের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হলো, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা। কারণ, নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরে মধ্য-বামপন্থী থেকে জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী- ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দল রয়েছে।

    নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে তারা একমত হলেও গাজা, পশ্চিম তীর, ধর্মীয় নীতি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠন করলেও সেই সরকার কতটা স্থিতিশীল হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ক্ষমতার চাবি কার হাতে?

    নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যত আলোচনা চলছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

    চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর সরকার গঠনে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত নেসেট সদস্যকে দায়িত্ব দেবেন।

    এখানে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ: নেসেটের বৃহত্তম দলের নেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হন না। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    প্রথম মনোনীত প্রার্থী সাধারণত ২৮ দিন সময় পান। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যায়। সমঝোতা ব্যর্থ হলে বিকল্প প্রার্থী, সংসদীয় উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হতে পারে।

    এই সময় নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তাঁকে এখনই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছাড়তে হচ্ছে না।

    এই অবস্থান তাঁকে একটি বাস্তব রাজনৈতিক সুবিধা দেয়। সরকার গঠনের আলোচনা যত দীর্ঘ হবে, ততদিন তিনি ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনা করা আর নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পূর্ণ মেয়াদের সরকার গঠন করা এক বিষয় নয়।

    প্রতীকি ছবি: এআই

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের দীর্ঘ অচলাবস্থা দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

    রয়টার্সের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, নেতানিয়াহুর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো নির্বাচনী ফল তাঁকে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দিলেও নতুন মেয়াদের নিশ্চয়তা দেয়নি।

    আরব বিশ্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকুন বা আইজেনকোট সরকার গঠন করুন, ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের মৌলিক পরিবর্তন নিশ্চিত নয়। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের হতাশার চিত্র উঠে এসেছে।

    তাই প্রশ্ন শুধু কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নয়। প্রশ্ন হলো, নতুন সরকার গঠিত হলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের নীতি কতটা বদলাবে? গাজায় যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে কি নতুন রাজনৈতিক পথ তৈরি হবে? নাকি নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও পুরোনো নীতিই নতুনভাবে ফিরে আসবে?

    সব মিলিয়ে ইসরায়েলের নির্বাচন এক অদ্ভুত রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে। নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতা হারাননি। আইজেনকোট পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন, কিন্তু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় জোট নিশ্চিত করতে পারেননি। আরব দলগুলো ইতিহাস গড়ার পথে, কিন্তু তাদের সমর্থন গ্রহণেই বিরোধী রাজনীতির বড় অংশের আপত্তি।

    এ যেন এমন এক নির্বাচন, যেখানে সংখ্যার বিচারে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা এগিয়ে, কিন্তু ক্ষমতার বাস্তব সমীকরণে নেতানিয়াহুই এখনো শক্ত অবস্থানে।

    শেষ পর্যন্ত কি নেতানিয়াহু প্রতিপক্ষের বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবারও সরকার গঠন করবেন? আইজেনকোট কি আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক সাহস দেখাবেন? নাকি কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ইসরায়েলকে আবার নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেবে?

    উত্তর এখনো অজানা।

    তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলের ভোটযুদ্ধ শেষ হলেও ক্ষমতার আসল যুদ্ধ এখন শুরু। আর সেই যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করবে শুধু আসনসংখ্যা নয়, রাজনৈতিক আপসের সীমা এবং কে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত- তার ওপর।


    তথ্যভিত্তি: রয়টার্স, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, দ্য জেরুজালেম পোস্ট এবং পূর্বে দেওয়া মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন। পরিসংখ্যান ২৮ অক্টোবর রাত থেকে ২৯ অক্টোবর ভোরের প্রকাশিত প্রাথমিক গণনার ভিত্তিতে; চূড়ান্ত ফল নয়। রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো বিশ্লেষণ, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাণিজ্য

    টোকিওর ঘোষণায় বাংলাদেশের জন্য কী আছে, আর কী নেই; এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের স্বপ্নের ঝুলি

    অক্টোবর 29, 2026
    মোস্ট ফিচার

    লেজার স্ক্যানে উঠে এল আমাজনের ৪৩২ ভূ-লিপি, বাস ছিল লাখ লাখ মানুষের

    অক্টোবর 29, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েলের নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট, আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু

    অক্টোবর 29, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    দুর্নীতি ধরিয়ে দেয়ায় চাকুরিচ্যুত শামসুল; বিচারের আশায় ঘুরছেন পথে পথে

    অপরাধ অক্টোবর 29, 2026

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.