এই সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে শহর ও গ্রামের কাছে গোলাবর্ষণের মাধ্যমে আবারও সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযানগুলো নির্বিচার হামলা, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন। সাদা ফসফরাস যন্ত্রণাদায়ক দগ্ধতা ও মৃত্যুর কারণ হয় এবং অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে একটি দাহ্য অস্ত্র হিসেবে গণ্য করেন।
কিন্তু এর অন্যান্য সামরিক ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি মূলত একটি সার্বিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এখানে, মিডল ইস্ট আই এই যুদ্ধাস্ত্র এবং এটি কীভাবে মোতায়েন করা হয় সে সম্পর্কে আপনার জানার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু ব্যাখ্যা করেছে।
সাদা ফসফরাস কী?
সাদা ফসফরাস, যা সাধারণত শিলা ফসফেট থেকে পাওয়া যায়, হলো একটি ফ্যাকাশে, মোমজাতীয় কঠিন পদার্থ যা অন্ধকারে জ্বলে কিন্তু আলোর সংস্পর্শে এলে কালো হয়ে যায়।
এটি একটি উদ্বায়ী অগ্নিনিয়ন্ত্রক পদার্থ, অর্থাৎ এটি বাতাস বা জলের সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে এবং ঘন সাদা ধোঁয়া উৎপন্ন করে।
মূলত, এটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে দেশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হত, কিন্তু এর বাষ্প থেকে সৃষ্ট পোড়া প্রায়শই শ্রমিকদের মধ্যে একটি মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করত, যা কথ্য ভাষায় “ফসি জ” নামে পরিচিত ছিল।
বর্তমানে বেসামরিক জীবনে এটি প্রধানত কৃষিকাজে এবং ডিটারজেন্টে রাসায়নিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যদিও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে এর ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে।
রণক্ষেত্রে সেনাবাহিনীগুলো বলে যে, এর ধোঁয়া সৈন্য চলাচল গোপন করার পাশাপাশি কামান বা বিমান হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতেও সাহায্য করে।
কিন্তু সেই একই ধোঁয়া একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজক পদার্থও বটে, যার অর্থ হলো সাদা ফসফরাসকে দাহ্য অস্ত্র হিসেবে অথবা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাদা ফসফরাস কী কাজ করে?
সুড়ঙ্গের মতো বদ্ধ স্থানে সাদা ফসফরাস শ্বাসরোধসহ গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করে। শ্বাসনালীতে দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শের ফলে বমি বমি ভাব, জ্বালাপোড়া, ফুসফুসে তরল জমা এবং তীব্র তৃষ্ণা হতে পারে।
সাদা ফসফরাস আঠালো হওয়ায় ত্বক ও কাপড়ে লেগে যায়, ২৫০০ সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উৎপন্ন করে এবং মাংস পুড়িয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, যার ফলে অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত সৃষ্টি হয়।
কখনও কখনও ক্ষতস্থান থেকে ধোঁয়া বের হয় বা ফসফরিক অ্যাসিড দেখা যায়। সাদা ফসফরাস রক্তপ্রবাহে মিশে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বিষাক্ত করে তুলতে পারে, যার ফলে মৃত্যুও হতে পারে।

সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীর থেকে দাহ্য পদার্থটি অপসারণ করে এবং ক্ষতস্থান ঢেকে দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, যাতে পুনরায় আগুন না জ্বলে (সাদা ফসফরাস নিভে গেছে বলে মনে হলেও পুনরায় জ্বলে উঠতে পারে)।
চিকিৎসা পেশাজীবীরা এর প্রভাবের চিকিৎসা করতে গেলে, সাদা ফসফরাস অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এর বিষাক্ততার কোনো প্রতিষেধক নেই।
মানুষের ওপর প্রভাব ছাড়াও, সাদা ফসফরাসের দাহ্যতার কারণে এটি ভবন ও অবকাঠামো পুড়িয়ে ফেলতে পারে এবং জমিকে কৃষিকাজের অযোগ্য করে তুলতে পারে।
হার্ভার্ড ল স্কুলের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ক্লিনিকের প্রভাষক এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর জ্যেষ্ঠ অস্ত্র উপদেষ্টা বনি ডচার্টি সাদা ফসফরাস বিষয়ে ব্যাপকভাবে লিখেছেন।
তিনি MEE-কে বলেন: “যখন কোনো জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে সাদা ফসফরাস বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন তা বিস্তৃত এলাকা জুড়ে পদার্থটির জ্বলন্ত খণ্ড ছড়িয়ে দেয় এবং বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্য কিংবা বেসামরিক বস্তু ও সামরিক লক্ষ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না।”
উক্ত ব্যবহার স্বভাবতই নির্বিচার এবং তা সাধারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বা যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করে।
সাদা ফসফরাস প্রথম কবে ব্যবহার করা হয়েছিল?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যসহ কমনওয়েলথ বাহিনীগুলো সর্বপ্রথম ব্যাপকভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে। ১৯২০ সালের বিদ্রোহের সময় আরএএফ (RAF) ইরাকে কুর্দি গ্রামগুলোর ওপর সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করে এটি ব্যবহার করেছিল।
১৯৪৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী নরম্যান্ডি অভিযানে সাদা ফসফরাস গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল। দুই দশক পরে ভিয়েতনামে, মার্কিন সৈন্যদের দেওয়া ডাকনাম ‘উইলি পিট’ ভিয়েত কং-এর সুড়ঙ্গপথে শত্রুদের শ্বাসরোধ করতে এবং নেপাম জ্বালাতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধে ব্রিটিশরা আর্জেন্টাইন বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করেছিল। একইভাবে, ১৯৯০-এর দশকের চেচেন যুদ্ধগুলোতে রুশরা সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছিল।
২০২০ সালে দ্বিতীয় নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধের সময়, আর্মেনিয়া আজারবাইজানকে দাহ্য অস্ত্র হিসেবে সাদা ফসফরাস ব্যবহারের জন্য অভিযুক্ত করে। পরবর্তীতে আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কের তদন্তকারীরা এই অস্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। আজারবাইজানও জানায় যে আর্মেনিয়া এই অস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল।
এমন অভিযোগও রয়েছে যে, ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল মস্কো।
ইসরায়েল কখন এটি ব্যবহার করেছে?
ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননে তার সামরিক অভিযান চলাকালে ব্যাপকভাবে সাদা ফসফরাসযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে, এই বছরের মার্চ মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামের বাড়িঘরের ওপর সাদা ফসফরাস নিক্ষেপের ঘটনা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং এইচআরডব্লিউসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে একাধিকবার দক্ষিণ লেবানন ও গাজার জনবহুল এলাকায় ইসরায়েল কর্তৃক সাদা ফসফরাসের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।
ইসরায়েল, যারা ছিটমহলটিতে তাদের গণহত্যায় ৭২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, এই প্রতিবেদনগুলো অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রথমে বলেছিল যে, “গাজায় সাদা ফসফরাসযুক্ত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তারা বর্তমানে অবগত নয়”, কিন্তু পরে জানায় যে এই ধরনের প্রতিবেদনগুলো “একদম মিথ্যা”।
ইসরায়েল এর আগে ২০০৬ সালে লেবাননে আগ্রাসন এবং ২০০৮-০৯ সালে গাজায় যুদ্ধের সময় এই অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে। এইচআরডব্লিউ-এর মতে, সে সময় ইসরায়েল গাজার জনবহুল এলাকায় প্রায় ২০০টি সাদা ফসফরাসের গোলা নিক্ষেপ করে, যার ফলে কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়।
ইসরায়েলি সরকারের মন্ত্রী ইয়াকভ এদ্রি ২০০৬ সালের অক্টোবরে বলেছিলেন: “আইডিএফ [ইসরায়েলি সেনাবাহিনী] বিভিন্ন ধরনের ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র ধারণ করে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আইডিএফ খোলা ময়দানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ফসফরাস শেল ব্যবহার করেছিল।”
২০১৩ সালে, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ বিচার আদালত জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাদা ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা একটি আবেদন খারিজ করে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জায়গায় কী অবস্থা?
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সময় সিরিয়া ও ইরাকেও সাদা ফসফরাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট, তুরস্ক এবং সিরীয় সরকার—প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই এই অস্ত্রটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।
২০০৫ সালের নভেম্বরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে যে তারা আগের বছর ইরাকের ফালুজা অবরোধের সময় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছিল। পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ব্যারি ভেনেবল বিবিসিকে বলেন, “হ্যাঁ, এটি শত্রু যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দাহ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।”
এইচআরডব্লিউ ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে সাদা ফসফরাস ব্যবহারের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটকেও অভিযুক্ত করেছিল। এর জবাবে ওয়াশিংটনও সেই একই বছরে ৪৪ বার সাদা ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহারের জন্য তালেবানকে অভিযুক্ত করে।
সাদা ফসফরাস সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?
এর ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইনে সাদা ফসফরাস স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ নয়।
১৯৮০ সালে গৃহীত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, প্রচলিত অস্ত্র সংক্রান্ত কনভেনশন (সিসিডব্লিউ)-এর প্রোটোকল III দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রোটোকল III দাহ্য অস্ত্রকে এমন অস্ত্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে যা “প্রাথমিকভাবে” আগুন লাগানো এবং মানুষ পোড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং নেপাম ও ফ্লেমথ্রোয়ারের মতো অস্ত্রের ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
কিন্তু এই সংজ্ঞা থেকে সাদা ফসফরাসকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পর্কে ডচার্টি বলেন, “এটি সেই সংজ্ঞার ফাঁকফোকরে পড়ে যায়, কারণ এটি একটি বহুমুখী যুদ্ধাস্ত্র যা মূলত ধোঁয়ার আড়াল বা আলোকসজ্জার জন্য তৈরি করা হয়েছে” এবং এটি “প্রোটোকলের একটি বড় ফাঁক”।
তিনি বলেন, “অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল তা নির্বিশেষে, তাপ ও অগ্নি উৎপন্নকারী অস্ত্রের কারণে বেসামরিক নাগরিকরা একই রকম যন্ত্রণাদায়ক আঘাত পান। সুতরাং, সংজ্ঞাটি বরং অস্ত্রের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।”
প্রোটোকল III ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য অস্ত্রের চেয়ে “আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য” দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যাকে ডচার্টি প্রোটোকল III-এর “অন্য একটি ফাঁক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রোটোকল III-এর সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হলেও, অনেক সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র, যেমনটি সম্প্রতি ইসরায়েল লেবাননে ব্যবহার করেছে, ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
এর শাসন ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির পক্ষ থেকে সিসিডব্লিউ ও এর প্রোটোকল সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এই ব্যবস্থায় একক স্বাক্ষরকারী দেশকেই যেকোনো পরিবর্তনে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়, যেমনটা রাশিয়া বারবার করে এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ, চীন, ভারত এবং রাশিয়াসহ ১১৭টি রাষ্ট্র প্রোটোকল III অনুমোদন করলেও, এখনও কিছু রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ইসরায়েল, ইরান, তুরস্ক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, মিশর এবং সুদান এই প্রোটোকলের পক্ষভুক্ত নয়, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা এটি মানতে বাধ্য নয়। ফিলিস্তিন ও লেবাননের মতো অন্যান্য রাষ্ট্র এতে যোগদান করেছে।
স্বাক্ষরকারী নয় এমন দেশগুলোও সাধারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য, যার মধ্যে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি ও অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এড়ানো অন্তর্ভুক্ত।
সাদা ফসফরাস কে উৎপাদন করে?
সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্রের সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে উপলব্ধ তথ্য সীমিত।
২০২৩ সালের অক্টোবরে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত সাদা ফসফরাস কামানের গোলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের শনাক্তকরণ কোড খুঁজে পায়।
গোলাগুলো এম১০৯ ১৫৫ মিমি হাউইটজার ব্যবহার করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা সর্বপ্রথম মার্কিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করেছিল এবং বর্তমানে প্রধানত ব্রিটিশ বহুজাতিক নিরাপত্তা সংস্থা বিএই সিস্টেমস ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো এটি নির্মাণ করে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লেবাননের দেইরা গ্রামে ইসরায়েলের ব্যবহৃত সাদা ফসফরাস শেলের টুকরোগুলোর ওপর ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এমন উৎপাদন কোড শনাক্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত কোডের সঙ্গে মিলে যায়। কোডগুলো থেকে ধারণা করা হয় যে, শেলগুলো ১৯৮৯ এবং ১৯৯২ সালে লুইজিয়ানা ও আরকানসাসে তৈরি হয়েছিল।
আরকানসাসে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর পাইন ব্লাফ আর্সেনাল প্ল্যান্টটি সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র তৈরির একটি প্রধান কেন্দ্র এবং অ্যামনেস্টি ও ওয়াশিংটন পোস্ট উভয়ই এটিকে গাজা ও লেবাননে ব্যবহৃত ইসরায়েলি শেলগুলোর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
২০০৫ সালে মার্কিন সংস্থা টেলিডাইন ব্রাউন ইঞ্জিনিয়ারিংকে অস্ত্রাগারের সাদা ফসফরাস প্ল্যান্টের আধুনিকীকরণের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি প্রদান করা হয়েছিল।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডসহ অন্যান্য প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কোম্পানি আইসিএল গ্রুপকে (যা পূর্বে ইসরায়েল কেমিক্যালস লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল) পাইন ব্লাফ আর্সেনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সাদা ফসফরাসযুক্ত যুদ্ধাস্ত্রের একটি প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মার্কিন কৃষি-রাসায়নিক কোম্পানি মনসান্তো, যা ২০১৮ সালে জার্মান বহুজাতিক কোম্পানি বায়ারের কাছে অধিগ্রহণ হয়েছিল, সেটিও সাদা ফসফরাসের সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়টি বিজ্ঞান লেখক জ্যাক লোম্যান তার ‘হোয়াইট লাইট: দ্য এলিমেন্টাল রোল অফ ফসফরাস – ইন আওয়ার সেলস, ইন আওয়ার ফুড, অ্যান্ড ইন আওয়ার ওয়ার্ল্ড’ বইটিতেও উল্লেখ করেছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সাদা ফসফরাসযুক্ত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করছে বলে ওঠা অভিযোগ পেন্টাগন এড়িয়ে গেছে।
“এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এবং আমার মনে হয়, আইডিএফ-এর মুখপাত্র বলেছেন যে তারা এটি ব্যবহার করছেন না। তাই এ বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই,” বলেন তৎকালীন পেন্টাগনের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাবরিনা সিং।
সূত্র: ‘মিডল ইস্ট আই’-এর ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

