সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের জন্য জারি করা অধ্যাদেশটি আর বহাল রাখা হচ্ছে না। সরকার জানিয়েছে, এ অধ্যাদেশকে নতুন করে আইন হিসেবে সংসদে পাস করার কোনো পরিকল্পনা নেই, কারণ এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জারি করা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এর অধীনে আর কোনো গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন না থাকায় এটিকে আইনে রূপ দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়নি জামায়াতে ইসলামী। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) প্রদান করেছে। শুধু গণভোট অধ্যাদেশ নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সরকারি পক্ষ মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী। এসব বিষয়ে জামায়াত আপত্তি জানিয়ে তাদের ভিন্নমত তুলে ধরেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে যেসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো আর বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে সবগুলো অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায়ই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, আবার কিছু সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে তোলা হবে। সময়স্বল্পতার কারণে সবগুলো বিল একসঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। যেগুলো এখন আনা যাবে না, সেগুলো পরবর্তী অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না পেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে আবার বিল আকারে আনার সুযোগ থাকবে। এদিনের বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

