নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে দেশে ডিএনএ প্রোফাইলিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবসহ দেশের সাতটি বিভাগীয় ল্যাবরেটরিতে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডিএনএ আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সম্মতির বিষয় ছাড়াই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় আইন, নীতিমালা ও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহযোগিতা ও মানসিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ সেবা পেয়েছেন।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সেবার মাধ্যমে কোটি মানুষের কাছাকাছি জরুরি সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়। একই সঙ্গে ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে হাজার হাজার ভুক্তভোগীকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি সক্রিয় রয়েছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপে হাজার হাজার বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের কাজও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

