রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের ঘাটতির কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা বাড়লেও এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরও হাসপাতালের পরিচালক পদে বহাল থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আগেই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেনি।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পরিচালক পরিস্থিতির গুরুত্ব শুরুতে স্বীকার না করে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে দাখিল করা প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য খণ্ডন করতে পারেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এত কঠোর মন্তব্যের পরও গতকাল রবিবার দেখা যায়, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আজ সোমবার এ বিষয় নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটরের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জন্য পর্যাপ্ত নিউনেটাল ভেন্টিলেটর না থাকায় চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সংকটে হাসপাতাল পরিচালকের দায়িত্ব হলো দ্রুত সমস্যাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠায় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের পরও কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

