প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম ‘এমটিএফই’–এর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪ কোটির বেশি, দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এমটিএফই” নামের এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত একটি পনজি স্কিম হিসেবে কাজ করত, যেখানে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করা হতো।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এই চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউব—ব্যবহার করে দ্রুত লাভের আশ্বাস দিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হয়।ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো বাস্তব লেনদেন ছিল না।
প্রথমদিকে কিছু বিনিয়োগকারীকে অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।
একটি মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় একজন ভুক্তভোগী প্রায় দুই লাখ টাকা হারানোর অভিযোগ করেন। পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অসংখ্য মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং মোট অর্থের পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
সিআইডি জানায়, পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘ওকেএক্স’-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থের উৎস শনাক্ত করে সংস্থাটি। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি যোগাযোগ স্থাপন করে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। সবশেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ওই হিসাবে জমা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার কারণে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই এই অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাকি পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেছে, অতিরিক্ত লাভের প্রলোভনে পড়ে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন। তাই বিনিয়োগের আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

