রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণের পর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে, যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান এবং আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান পৃথকভাবে এই আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।
আজ সকালে খায়রুল হককে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তিনি কাঠগড়ায় নীরব ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন এবং জামিনের আবেদন জানান।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, আসামি মামলাগুলোর এজাহারভুক্ত এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। অপরদিকে, আসামিপক্ষ জানায়, তিনি পূর্বে কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন এবং বয়সজনিত কারণে তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো উচিত নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, এ আদালতে কেবল গ্রেপ্তার সংক্রান্ত শুনানি হয়েছে, জামিন বিষয়ে নয়। এরপর আদালত দুটি মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং জামিনের আবেদন নথিভুক্ত করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে শিক্ষার্থী মো. আরিফ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট তার বাবা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
অন্যদিকে, ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোড এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত হয়ে গার্মেন্টস কর্মী মো. রুবেল মারা যান। এ ঘটনায় ২২ আগস্ট তার বাবা আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

