চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে দেশের রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, রাজস্ব বাড়ানো হবে করের হার বৃদ্ধি করে নয়, বরং কর ফাঁকি রোধ, করছাড় কমানো এবং কর্মকর্তাদের কার্যকারিতা উন্নীত করার মাধ্যমে।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এনবিআরের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির টাস্কফোর্সের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ড. রাশেদ তিতুমীর বলেন, “পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাগজে রাজস্ব বাড়িয়ে দেখানো হতো। বাস্তব আদায়ের সঙ্গে মিল ছিল না। এতে দেশের অর্থনীতি তলানিতে পৌঁছেছে। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে লুটপাট ও গোষ্ঠীতন্ত্রের কারণে কর-জিডিপি অনুপাত তলানিতে রাখা হয়েছিল, অন্যদিকে আয়ের সংখ্যা দেখানো হতো যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমে যাচাই করলে এই অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে যাবে। বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজস্ব বৃদ্ধি করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা। তিনটি টাস্কফোর্স দিনরাত এ কাজে নিয়োজিত।”
উল্লেখ্য, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, সাত শতাংশেরও কম। এই অনুপাত আরও জটিল হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে, যা জ্বালানি খাতসহ দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
ড. রাশেদ তিতুমীর জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হবে। তিনি বলেন, “রাজস্বের হার বাড়ানো হবে না। তবে কর ফাঁকি রোধ, জালিয়াতি রোধ, করছাড় সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা, কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদান এবং অপচয় কমানোর মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব। এছাড়া ডিজিটাল সংস্কার ও অটোমেশন জোরদার করা হচ্ছে। আইবাস প্লাস সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।”
তিনি মনে করেন, জিডিপির প্রকৃত চিত্র ও কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল বাস্তবসম্মত হবে। অতীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর প্রবণতা সংশোধনেও কাজ শুরু হয়েছে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়াবে না। বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ কমানো এবং সম্পদ বৃদ্ধি–এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়ালে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, ফলে করহার বাড়ানো ছাড়াই রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থায়নও স্থানীয় আয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এখন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ড. তিতুমীর জানান, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত সরকার একের পর এক তেল-গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনা করে দাম বাড়াবে না।”

