আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এক দিনের ভিডিও ফুটেজ গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠলেও, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঘটনাটি এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, সিসিটিভি সংরক্ষণ ব্যবস্থার কিছু হার্ডড্রাইভে পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো ও নতুন হার্ডড্রাইভ সংযোজন ও অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিকে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি সংরক্ষণ ইউনিট ও রেজিস্টারে এসব পরিবর্তনের উল্লেখও পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এই বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে মানতে নারাজ প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফুটেজ গায়েব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, তানভীর হাসান জোহার মন্তব্য প্রসিকিউশন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে জোহা দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব জোহাকে দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি কমিটিকেও কিছু জানাননি। তার মতে, ফুটেজ থাকা বা না থাকার বিষয়ে জোহার মন্তব্য ব্যক্তিগত অভিমত। তদন্ত চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের কাছে কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি। সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

