বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু এবং আদালতের কার্যক্রমে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত।
গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কপি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন।
আদেশ অনুযায়ী, ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেছে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা বিচার প্রশাসনের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। এতে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আদালতের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা জরুরি। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মনে করে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে জাল পরোয়ানা ও বিচারিক নথি তৈরির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট আদালত কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করা, হেফাজত থেকে আসামি হাজির করার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অনুসন্ধান।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কমিটিকে প্রয়োজনীয় নথি তলব, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনে যেকোনো কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার, বাধা সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

