ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত সমানভাবে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই দৈনন্দিন কাজকর্ম নির্বিঘ্নে করতে পারছেন না।
রাজধানীর তেজকুনিপাড়ায় চা বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত অসহনীয় হয়ে ওঠে। দোকানে বসে থাকতে কষ্ট হয়। কয়েল জ্বালিয়েও তেমন উপকার পান না। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে শহরের অন্যান্য এলাকাতেও। মশার এই বাড়তি দৌরাত্ম্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সম্প্রতি এক আইনজীবী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দুই সিটি করপোরেশন কিছুটা সক্রিয় হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বৃষ্টির অভাবে অনেক জায়গায় পানি জমে স্থির হয়ে আছে। ড্রেন ও জলাধারের পানি পচে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিও মশার বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতিও রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর দাবি, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা ভালো এবং সারা বছরই মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে নগরবাসীর অভিযোগ ভিন্ন। পীরেরবাগ ও বংশালসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত ও কার্যকরভাবে ওষুধ ছিটানো হয় না। মাঝে মাঝে ফগিং হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। বাজারেও মশা প্রতিরোধক কিছু পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করলেও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে সেই তদারকি কমে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমে শৈথিল্য আসে। ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা দূর করা বা লার্ভা ধ্বংসের মতো কাজ নিয়মিত হয়নি। এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—যেমন ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট ও কিছু আবাসিক অঞ্চল—সিটি করপোরেশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় সেখানে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব এলাকা থেকেও মশা ছড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যৌথভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং ওষুধ প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

