মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৭ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব আজ শনিবার অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে
প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট আমদানির মধ্যে থাকবে—১৬ লাখ টন ডিজেল, ১ লাখ টন পেট্রোল। সরকারি হিসাবে, এই ডিজেল দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে পেট্রোলের এই পরিমাণ প্রায় ৭১ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
সম্প্রতি ইরান-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তিনটি দেশ থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে—,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কাজাখস্তান। এর মধ্যে ইউএই ভিত্তিক একটি কোম্পানি থেকে বড় অংশের ডিজেল ও পেট্রোল আনা হবে। এছাড়া ওমান ও কাজাখস্তান থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগও নিচ্ছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি আমদানি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কো-এর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সারির দেখা মিলেছে। যদিও সরকার বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিক আছে এবং আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তুলনামূলক বেশি দামে হলেও তেল আমদানি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সন্ধ্যার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখা ও সরকারি ব্যয় কমানো। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার এখন বহুমুখী কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে।

